প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা, শুরু নতুন যাত্রা

ছবি: আগামীর সময়
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল্যবোধভিত্তিক কাঠামোর ওপর পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক চেতনা নতুন পাঠ্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
রবিবার ঢাকার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে আয়োজিত পাঠ্যক্রম উন্নয়নবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘২০২৮ সালের পাঠ্যক্রম সংস্কারের যাত্রা এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। তিনি জানান, নতুন পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা, গণিত দক্ষতা, বাস্তব শেখার সক্ষমতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে বই পড়তে দিলে সে যেন তা বুঝে পড়তে পারে, নিজের ভাষায় তা প্রকাশ করতে পারে এবং শেখার প্রতি আগ্রহী হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’
তিনি আরও জানান, প্রতিটি শ্রেণির জন্য সুস্পষ্ট শিখনফল নির্ধারণ করা হবে এবং পঞ্চম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীদের অর্জনযোগ্য দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা থাকবে। এর ভিত্তিতেই পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক সহায়িকা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষাসামগ্রী প্রণয়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, নতুন পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভিডিও পাঠ, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ও অন্যান্য সহায়ক উপকরণ তৈরি করা হবে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালিত হবে খেলাধুলা ও আনন্দভিত্তিক পদ্ধতিতে।
তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল স্থাপন করা হবে। আর তিন বছরের মধ্যে এ প্রযুক্তি পৌঁছে যাবে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি, গণসাক্ষরতা অভিযান (ক্যাম্পে) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




