পার্টস আমদানির আড়ালে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি, বিলাসবহুল ৩ গাড়ি জব্দ

জব্দ করা তিন গাড়ি
যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে দেশে এনে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তরের অভিযোগে কক্সবাজারে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘টয়োটা সুপরা’, ‘হোন্ডা সিভিক’ ও ‘মাজদা একএক্স-৫’।
বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের কলাতলী রোডের ওশেন প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাড়িগুলো জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল।
সিআইআইডি সূত্র জানায়, গাড়িগুলো পূর্ণাঙ্গ যানবাহন হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসেবে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে। পরে স্থানীয়ভাবে এসব যন্ত্রাংশ সংযোজন করে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
অভিযানের সময় গাড়িগুলোর প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ‘SINH4’, ‘S4FIAT’ ও ‘ESH4H’ লেখা থাকার বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এরপর গাড়িগুলোর আমদানি, মালিকানা, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজনের বৈধতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পার্টস নাকি শুল্ক ফাঁকির কৌশল?
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, সম্পূর্ণ গাড়ি আমদানি না দেখিয়ে আলাদা আলাদা যন্ত্রাংশ আমদানি করে কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কিনা তা জানতে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে করফাঁকির বিষয়টি প্রমাণিত হলে কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, গাড়িগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি। তারা হলেন—কক্সবাজারের হাসিবুর রহমান সিনহা, গাজীপুরের আজমাইন রাইহান, ঢাকার নকিবুল হাসান, গাজীপুরের শরাফাত রহমান এবং ঢাকার সিফিয়াত মাহমুদ।
জব্দ করা গাড়িগুলোর বিল অব এন্ট্রি, আমদানি ঘোষণা, এইচএস কোড, ঘোষিত মূল্য, শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্য, ভিআইএন/চেসিস নম্বর, আমদানিকারক এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইআইডি। একই সঙ্গে গাড়িগুলোর বিভিন্ন অংশ কীভাবে দেশে এসেছে, কোন পণ্যের নামে সেগুলো আমদানি করা হয়েছে এবং পরে কোথায় ও কীভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপ দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় থাকবে।







