বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, ‘রাত কাটবে নিদ্রাহীন’

ছবি: আগামীর সময়
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তৈরি হয়েছে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড হয় ৫২ দশমিক ১৬ মিটার; যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র বলছে, উজানে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি বেড়েছে। ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে পানিপ্রবাহ বেশি থাকলেও বিপৎসীমার নিচে ছিল। আজ হালকা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন যেভাবে পানি বাড়ছে এতে রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদী তীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।তাদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড এসব কাজ না করে ফেলে রাখে। বর্ষা এলে জরুরি মেরামত দেখিয়ে সরকারের টাকা লোপাট করে। অথচ শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ মেরামত করলে কাজগুলো পাকাপোক্ত হবে। আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধন এলাকার বজলার রহমান জানাচ্ছিলেন, ‘সকালে মহিষখোচা এলাকায় পানি বেড়েছিল। দুপুরে আবার নেমে গেছে। শুনতেছি ডালিয়ায় পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে গেছে। ওই পানি ভাটিতে আসলে আমাদের এলাকায় পানি উঠতে পারে।’
গোবর্ধন গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম বলছিলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পানি বাড়ছিল, কমছিল। আজকে বেশি বেড়েছে। চরাঞ্চলের অনেক বাড়িতে পানি। তারা পানিবন্দি। শিশু, বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে চরম কষ্ট হচ্ছে। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়েও কষ্টের শেষ নেই। এসবের মাঝে থাকে সাপ-পোকার প্রাদুর্ভাব। আজ রাত চরবাসীর নিদ্রাহীন রাত কাটতে পারে।’লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক সুনীল কুমার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘ভারতের পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এ কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার নিম্নাঞ্চলে হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’






