একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

সেতুর অভাবে এক কিলোমিটারের পথ নৌকায় পাড়ি দিতে হয় ১০ কিলোমিটার ঘুরে। ছবি: আগামীর সময়
একটি সেতুর অভাবে বছরের পর বছর দুর্ভোগে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার মানুষ। মাত্র এক কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে ঘুরতে হয় ১০ কিলোমিটার। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ। দ্রুত একটি সেতুর দাবি স্থানীয়দের।
উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের নাওপাড়া এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীর ওপর নেই একটি সেতু। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাত্র ১২০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর অভাবে উপজেলা শহরে যেতে প্রতিদিন প্রায় অতিরিক্ত ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে ১০ হাজার মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে নাওপাড়া ঘাটের দূরত্ব নৌপথে মাত্র এক কিলোমিটার। কিন্তু সেতু না থাকায় সড়কপথে পাকেরমাথা, পাইটকাপাড়া, কালজানি ও কাশিগঞ্জ হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে নাওপাড়া ঘাটে পৌঁছাতে হয়। এরপর নৌকায় নদী পার হয়ে যেতে হয় উপজেলা সদর বাজারে।
স্থানীয়দের দাবি, এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে বদরগঞ্জ উপজেলা শহর ও রংপুরে যাতায়াত অনেক সহজ হবে। কৃষকেরা দ্রুত ও কম খরচে বাজারে নিতে পারবেন উৎপাদিত ফসল।
নাওপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, বর্ষাকালে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়দের তৈরি বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। ভ্যান, রিকশা বা অন্য কোনো যানবাহন চলতে না পারায় মানুষকে বাধ্য হয়ে ১০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।
একই গ্রামের আবুল কালামের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে তা আর বাস্তবায়ন হয় না।
বদরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাকলী আক্তার জানায়, সেতু না থাকায় প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো থাকলেও তা বেশি দিন টেকে না। অনেক শিক্ষার্থী সাঁকো পার হতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়। একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
একই গ্রামের শিক্ষার্থী মিজান ইসলাম জানায়, বর্ষাকালে নৌকায় করে স্কুলে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সেতু হলে স্কুলের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার হবে, অথচ এখন ১০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।
মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, যমুনেশ্বরী নদীর দুই পাড়ের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই পথে চলাচল করেন। কাশিগঞ্জ, পাইটকাপাড়া, বগুড়াপাড়া, কালজানি, ধনতোলা ও দোলাপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্কুল-কলেজে যায়।
কৃষকেরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। রাতে কেউ অসুস্থ হলে নৌকা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তাই দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আলম আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘নাওপাড়া ঘাটে একটি স্থায়ী সেতু খুবই জরুরি। এটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং কৃষকরা কম খরচে বাজারে ফসল নিয়ে গিয়ে ভালো দাম পাবেন।’
বদরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘আমি এর আগে নাওপাড়া এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে একটি সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। সেতু নির্মাণের জন্য এলজিইডির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’





