ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ছয় ইউপি ভবন সংস্কার
জুনের কাজ শেষ হয়নি জুলাইয়েও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলা হালুয়াঘাটের ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবন সংস্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬০ লাখ টাকা। ৩০ জুনের মধ্যে এসব কাজ শেষ করার কথা ছিল। কাজ শেষ না হলে অব্যয়িত টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নিয়মও রয়েছে; কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে জুলাই শেষ হলেও সংস্কারকাজ শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে কাজ। তবে কাজ শেষ না হলেও বিল-ভাউচার প্রস্তুত এবং বরাদ্দের টাকা তুলে রাখার অভিযোগও উঠেছে।
যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলছেন, ‘টাকা আত্মসাৎ বা কোনো অনিয়ম হয়নি; কাজ শেষ করে ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার জন্য টাকা রাখা হয়েছে ব্যাংকে।’
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৪ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি শাখা-২ থেকে হালুয়াঘাটের ধুরাইল, ধারা, জুগলি, স্বদেশি, কৈচাপুর ও গাজিরভিটা ইউনিয়ন পরিষদের ভবন মেরামত ও সংরক্ষণকাজের জন্য অর্থ ছাড় করা হয়। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। এই অর্থ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দ হিসেবে ৩০ জুনের মধ্যে ব্যয় করার কথা ছিল। একই সঙ্গে অব্যয়িত অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। এক খাতের অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্ট সরকারি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম হলে বিল পরিশোধকারী কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন— এমন কথাও ছিল ওই নির্দেশনায়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জিয়াউর রহমান চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানালেন, তিনি ইউএনওর কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। ইউএনও তাকে জানিয়েছেন অসমাপ্ত কাজ চলমান।
ধারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের দাবি, কয়েক দিন ধরে সংস্কারকাজ চলছে। তবে কাজ শেষ না হলেও বিল-ভাউচার প্রস্তুত হয়েছে বলে তিনি জানালেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, টাকা ইউএনও উত্তোলন করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউএনও ফয়সাল আহমেদ। তার দাবি, তিনি ও উপজেলা প্রকৌশল অফিসের একজন কর্মকর্তা যৌথ স্বাক্ষরে টাকা রেখেছেন সোনালী ব্যাংকে। অর্থবছর শেষ হওয়ায় টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই অসমাপ্ত কাজ শেষ করে ঠিকাদারকে টাকা দেওয়ার জন্য তা তুলে রাখা হয়েছে।
অবশ্য উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওবায়দুল হকের দাবি সংস্কারকাজ ও টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ২২ জুলাই হালুয়াঘাটে যোগ দিয়েছেন তিনি।
তবে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ হিসেবে ইউএনও সময়স্বল্পতা ও ঠিকাদারদের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। ফয়সাল আহমেদের ভাষায়, সময় কম পাওয়ায় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদার গাফিলতি করেছেন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে কারণ দর্শানোর নোটিস।




