কাপাসিয়ায় ভূমি অফিসের তালা, সেবা নিতে দুর্ভোগ দুই ইউনিয়নে

ছবি: আগামীর সময়
দরজায় ঝুলছে তালা। চারপাশে আগাছা-ঝোপঝাড়। টিনশেড ভবনের দরজা-জানালায় ধরেছে মরিচা। পাশে পড়ে আছে পানির মোটর ও ট্যাংক। পানির কলগুলোও খুলে নেওয়া হয়েছে। এমন অবস্থায় পড়ে আছে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রায়েদ বাজারের ভূমি অফিসের পুরোনো কার্যালয়টি।
দীর্ঘদিন ধরে রায়েদ ও সিংহশ্রী ইউনিয়নের মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার সহজ ঠিকানা ছিল এই কার্যালয়। নামজারি, খাজনা ও জমিজমার কাগজপত্রসহ নানা কাজে স্থানীয়রা এখানে আসতেন। কিন্তু ২০২৪ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে অফিসটি সরিয়ে নেওয়ার পর বদলে গেছে সেবার চিত্র। এখন দুই ইউনিয়নের মানুষকে ভূমি-সংক্রান্ত কাজে যেতে হচ্ছে অন্য এলাকায়। এতে বাড়ছে সময় ও যাতায়াতের খরচ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বয়স্ক ও দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রায়েদ বাজারে ভূমি অফিস থাকাকালে হাতের কাছেই ভূমি-সংক্রান্ত সেবা পাওয়া যেত। এখন নামজারি বা জমিজমার কোনো কাজে একাধিকবার অন্য এলাকায় যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে যাতায়াতের খরচ।
ভূমি অফিসের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, ২০২৪ সালে এখান থেকে ভূমি অফিসের সাব-অফিসটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগে এখান থেকেই নামজারিসহ সব ধরনের কাজ করতে পারতাম। এখন সামান্য কাজের জন্যও দূরে যেতে হয়। এতে ভোগান্তি বেড়েছে।
মাহতাবপুর গ্রামের আব্দুল করিম বলেন, আগে ভূমি অফিস কাছে থাকায় জমিজমা-সংক্রান্ত কাজে সহজেই যাওয়া যেত। এখন অফিস অন্য জায়গায় হওয়ায় সময় ও টাকা দুটোই বেশি লাগে। বয়স্ক মানুষদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টকর।
স্থানীয় সার্ভেয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন বলেন, রায়েদ ও সিংহশ্রী ইউনিয়নের অনেক মানুষ ভূমি-সংক্রান্ত কাজে রায়েদ বাজারে আসতেন। অফিস সরিয়ে নেওয়ার পর তাদের অন্য জায়গায় যেতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
ভূমি অফিস সরিয়ে নেওয়ার প্রভাব পড়েছে রায়েদ বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যেও। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসে সেবা নিতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার মানুষ বাজারে আসতেন। ফলে বাজারে মানুষের আনাগোনাও ছিল বেশি। অফিস চলে যাওয়ার পর সেই আনাগোনা কমেছে।
রায়েদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, রায়েদ বাজারে দীর্ঘদিন ভূমি-সংক্রান্ত সেবা পাওয়া যেত। অফিসটি সরিয়ে নেওয়ার পর দুই ইউনিয়নের মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এখানে আবার ভূমি অফিসের কার্যক্রম চালু করা দরকার।
রায়েদ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইদ আহমেদ বলেন, ভূমি অফিস থাকায় নিয়মিত অনেক মানুষ বাজারে আসতেন। অফিস চলে যাওয়ার পর মানুষের সেই আনাগোনা কমেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রায়েদ বাজারের ইজারাদার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূমি অফিস থাকায় বাজারে মানুষের স্বাভাবিক ব্যস্ততা ছিল। অফিস চলে যাওয়ার পর সেই ব্যস্ততা কমেছে। রায়েদ ও সিংহশ্রী ইউনিয়নের মানুষের সুবিধার জন্য ভূমি অফিসের কার্যক্রম এখানে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
এদিকে টোক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বলেন, টোক, সিংহশ্রী ও রায়েদ ইউনিয়নের মানুষের ভূমি-সংক্রান্ত সেবার জন্য বর্তমানে একটি অফিসেই কাজ করতে হচ্ছে। এতে কাজের চাপ ও মানুষের ভিড় বেড়েছে। ফলে সেবা দিতে সমস্যাও হচ্ছে। আলাদা অফিস চালু করা হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালে রায়েদ বাজার থেকে ভূমি অফিসের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে অফিসটি কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এবং ঠিক কী কারণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, তা অনেক স্থানীয় বাসিন্দারই জানা নেই।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক বলেন, রায়েদ বাজারের ভূমি অফিসটি ২০২৪ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এলাকার মানুষের দাবি, অফিসটি পুনরায় চালু করা হলে তাদের ভূমি সেবা পেতে সুবিধা হবে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব, যাতে রায়েদ ও সিংহশ্রী ইউনিয়নের মানুষের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
স্থানীয়দের দাবি, রায়েদ বাজারে ভূমি অফিসের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হলে রায়েদ ও সিংহশ্রী ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ সহজে ভূমি সেবা নিতে পারবেন। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও দূরবর্তী এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমবে।
তাদের মতে, নিরাপত্তাজনিত কারণে অফিস সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকলে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে রায়েদ বাজারে আবারও ভূমি সেবা চালু করা যেতে পারে।



