কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ নৈশপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

উদ্ধার করা নৈশপ্রহরীর মরদেহ— সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাদশা সেখ (৪০) নামে এক নৈশপ্রহরীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড় সাঁওতা গ্রামের মরা কালিগঙ্গা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বাদশা সেখ উত্তরপাড় সাঁওতা গ্রামের মৃত আত্তাপ শেখের ছেলে। তিনি মরা কালিগঙ্গা নদীতে রাতে মাছ পাহারা দেওয়ার কাজ করতেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত পাঁচ দিন ধরে নদী পাহারা দিতে গিয়ে বাদশা আর বাড়ি ফেরেননি। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বুধবার বিকালে মরা কালিগঙ্গা নদীর পাড়ে স্থানীয় এক নারী ঘাস কাটতে গিয়ে পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন এবং পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরপাড় সাঁওতা গ্রামের পাকা সড়কের পাশেই মরা কালিগঙ্গা নদী। সড়কের পাশে থাকা একটি টিনের চালার ঘর থেকে রাতে নদী পাহারা দিতেন বাদশা। ওই ঘরের পেছনেই উপুড় হয়ে পড়ে ছিল তার অর্ধগলিত মরদেহ। খবর পেয়ে নদীপাড়ে ভিড় করেন স্থানীয়রা। এ সময় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
নিহতের স্ত্রী সালমা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বললেন, ‘তিনি (বাদশা) রাতে নদীতে মাছ পাহারা দিতেন। মাঝে মাঝেই ৫-৭ দিন, এমনকি এক মাস পর পর বাড়ি ফিরতেন। তাই এবারও ৫ দিন বাড়ি না আসায় আমরা চিন্তা করিনি। থানায় জিডি করিনি। আমাদের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে কোনো চক্র তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে এখানে ফেলে গেছে। আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
স্থানীয়দের ধারণা, নদী পাহারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কারও সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘মরদেহটি বিকৃত ও গলিত হয়ে যাওয়ায় শরীরে আঘাতের চিহ্ন তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





