রাজশাহীতে এসএসসির পুনর্নিরীক্ষিত খাতা ফের দেখা হলো রাতে

ছবি: আগামীর সময়
রাত তখন ১০টা। দিনের ব্যস্ততা অনেক আগেই শেষ হয়েছে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে। বাইরে নীরবতা। প্রধান ফটক বন্ধ। কিন্তু ভেতরে তখনও এসএসসির খাতা দেখা।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অবস্থান করছেন বোর্ড ভবনে। পুনর্নিরীক্ষণ হওয়া উত্তরপত্র আবারও দেখছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২৭ শিক্ষককে বোর্ডে ডেকে নিয়ে মধ্যরাত অব্দি দেখানো হয়েছে এসএসসির ইংরেজি ও গণিতের খাতা।
বোর্ডের একাধিক সূত্র বলছে, এসএসসির ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়েছে। সেই খাতাগুলো কয়েক ধাপে দেখেন শিক্ষকরা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেও কিছু খাতা নিয়ে আবার বসেছে কর্তৃপক্ষ।
বোর্ডের কয়েক কর্মকর্তা বলেছেন, রাতে এভাবে ২৭ শিক্ষককে ডেনে এনে পুনর্নিরীক্ষণের খাতা আবার দেখানোর মতো ঘটনা আগে কখনও দেখেননি তারা।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে বোর্ডের ফটকের সামনে আসেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন। সাংবাদিকদের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হয়নি, রেজাল্ট দিতে হবে তাড়াতাড়ি। এই জন্য রাতে কাজ হচ্ছে।’
পুনর্নিরীক্ষণ হওয়া খাতা আবার দেখার কারণ জানতে চাইলে তার জবাব, ‘খাতা দেখে ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে আরও দেখা দরকার। ভালো করে দেখা দরকার। ইংরেজি আর অংকের খাতায় অনেক বেশি ফেল। খাতাও অনেক। সেগুলো দেখতে একটু দেরি হয়েছে।’
রাতে শিক্ষকদের ডেনে আনার ব্যাখ্যা দিলেন চেয়ারম্যান। তার ভাষ্য, দিনের বেলায় শিক্ষকরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাদের সুবিধাজনক সময়ে সন্ধ্যার পর ডেকে এনে কাজ করানো হয়েছে। আজ বুধবারই নম্বর হস্তান্তর করতে হবে বলে এই তাড়াহুড়ো।
খাতা দেখা শেষে রাত ১২টার দিকে বোর্ড থেকে বেরিয়ে যান শিক্ষকরা।
এবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলে পাস করেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন। পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন।
এরপর ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বোর্ডে জমা পড়ে ৯৮ হাজার ৭১০টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন। এর মধ্যে ইংরেজি ও গণিতেই আবেদন সবচেয়ে বেশি।
এই পুনর্নিরীক্ষণের ফল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে বোর্ডসূত্রে।






