জ্বালানি সংকট কাটাতে সময় লাগবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির— সংগৃহীত
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং শিল্প-কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করতে সময় লাগবে।’
আজ বুধবার সকালে সিলেট নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমানে দুই-তিন দিন পরপর যে কয়েক ঘণ্টার লোডশেডিং হচ্ছে, তার পেছনে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা দায়ী। দেশের জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানিকৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরশীল হলেও অতীতে এলএনজি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়নি।’
তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা, আবাসিক গ্রাহক, শিল্প খাত ও নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এই সময়টাকে আমাদের একটি পরিবর্তনের সময় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘ছাত্র, তরুণ, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি বড় সামাজিক শক্তির বিকাশ ঘটেছে।’ তার ভাষায়, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে একটি জাতি যখন গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে ওঠে, সেটি একটি বিরল ঘটনা।
গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘জনগণ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব দেয়। সেই সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই আস্থা ধরে রাখা সম্ভব।’ জবাবদিহিতাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, ‘সিলেটে বর্তমানে দুটি বিসিক শিল্পনগরী রয়েছে। এর পাশাপাশি চলতি বছর নতুন একটি বৃহৎ বিসিক শিল্পনগরী স্থাপনের কাজ শুরু হবে। প্রায় ১৮৭ একর জমির এই শিল্পনগরী চালু হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’
যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে তিনি জানান, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। আখাউড়া-সিলেট রেলপথের পাশাপাশি সিলেট-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ চালু হলে পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জুলাই আন্দোলনে গড়ে ওঠা তরুণদের শক্তিকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘এই শক্তি যেন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।





