১৮ মাস ধরে বন্ধ ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ লোকাল ট্রেন, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রুটে চলাচলকারী লোকাল ট্রেনটি টানা ১৮ মাস ধরে বন্ধ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্বল্প ভাড়ায় বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহে যাতায়াতের অন্যতম ভরসা ছিল ট্রেনটি। দীর্ঘদিন ধরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও এখনো চালু হয়নি ট্রেনটি। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, ইঞ্জিন সংকটের কারণেই এটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
মোহনগঞ্জ রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ২১০ কিলোমিটার। এর মধ্যে মোহনগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের দূরত্ব ৮৭ কিলোমিটার। বর্তমানে এ রুটে হাওর এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস এবং একটি কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। তবে আগে প্রতিদিন ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জের উদ্দেশে একটি লোকাল ট্রেন ছেড়ে আসত। একইভাবে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ও বিকাল সাড়ে ৫টায় মোহনগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ট্রেনটি যাত্রা করত। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এর চলাচল বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন এই ট্রেনে যাতায়াত করতেন। স্বল্প খরচে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ থাকায় এটি ছিল হাওরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের অন্যতম পছন্দের বাহন।
ময়মনসিংহ থেকে নিয়মিত মোহনগঞ্জে যাতায়াতকারী সরকারি চাকরিজীবী ও মোহনগঞ্জ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মুখলেছুর রহমান বলেছেন, ‘কম খরচে ও স্বল্প সময়ে কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করার জন্য লোকাল ট্রেনটি ছিল সবচেয়ে সুবিধাজনক। ট্রেনটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় আমাদের ভোগান্তি বহুগুণ বেড়ে গেছে।’
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলহাস উদ্দিন বললেন, ‘ময়মনসিংহ থেকে শম্ভুগঞ্জ, বিশকা, গৌরীপুর, শ্যামগঞ্জ, হিরণপুর, চল্লিশা, নেত্রকোনা বড় স্টেশন, কোর্ট স্টেশন, ঠাকুরাকোনা, বারহাট্টা, অতিথপুর ও মোহনগঞ্জসহ বিভিন্ন স্টেশনে সহজে যাতায়াতের সুযোগ ছিল এই ট্রেনে। ট্রেনটি বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।’
মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার অকিল চন্দ্র দাস জানান, তিনি সম্প্রতি এখানে দায়িত্ব নিয়েছেন। শুনেছেন ট্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। তবে কবে এটি চালু হতে পারে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
স্টেশনমাস্টার মো. জহিরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘ট্রেনটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। চালুর বিষয়ে অফিসিয়ালভাবে কোনো আপডেট পাইনি। আগে শুনতাম, ইঞ্জিন ত্রুটির কারণে ট্রেনটির চলাচল বন্ধ রয়েছে। ইঞ্জিন পেলেই ট্রেনটি চালু হবে। তবে কবে নাগাদ ট্রেনটি চালু হতে পারে, সে বিষয়ে রেলওয়ের কাছ থেকে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা চিঠি পাওয়া যায়নি।’
দীর্ঘদিন ধরে লোকাল ট্রেনটি বন্ধ থাকায় দ্রুত এটি আবার চালুর দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। তাদের মতে, ট্রেনটি চালু হলে হাওরাঞ্চলের হাজারো মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।



