গাজীপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো. শাহাবুদ্দিন (৬৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে শহরের কেয়ার অ্যান্ড কিউর জেনারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহাবুদ্দিন নগরীর ধীরাশ্রমের মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
নিহতের ছেলে মো. সেলিম জানান, পেটে ব্যথা নিয়ে গত সোমবার (২৫ মে) গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তার বাবা। ওই হাসপাতাল থেকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে রেফার করা হয়। একপর্যায়ে হাসপাতালে থাকা রবিন নামের এক মধ্যস্থতাকারী সেলিমকে পরামর্শ দেন তার বাবাকে কেয়ার অ্যান্ড কিউর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানোর। রবিন তাকে আরও জানান, কেয়ার অ্যান্ড কিউর জেনারেল হাসপাতালের মালিক ডা. খলিলুর রহমান। তিনি শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের কনসালটেন্ট। খলিলের সঙ্গে কথা বলে রোগীকে কেয়ার অ্যান্ড কিউর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন রবিন।
সেলিম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তির পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শাহাবুদ্দিনকে কয়েকটি ইঞ্জেকশন পুশ করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তার। শাহাবুদ্দিন মারা যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তারা রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে নার্সসহ অন্যান্যরা হাসপাতাল থেকে পালাতে শুরু করেন।
সেলিম জানান, রাতে হাসপাতালের মালিক খলিলুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
খলিলুর রহমানের ভাষ্য, ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। ইঞ্জেকশনের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়নি।
তিনি বলেছেন, ‘এই রোগী পাকস্থলীতে ছিদ্রজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এই হাসপাতালের বিষয়ে কারও কাছে শুনে তিনি এখানে ভর্তি হয়েছেন। কারণ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ধরনের রোগীর অপারেশন করি আমি।’
রোগী হৃদযন্ত্রে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন ডা, খলিলুর। তবে ময়নাতদন্ত করলে রোগীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় যেসব রোগীকে রেফার করা হয়, সেসব রোগীদের নানাভাবে বুঝিয়ে গাজীপুরের বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক বা হাসপাতালে নিয়ে যান মধ্যস্থতাকারীরা। ওইসব ক্লিনিকে উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সামগ্রী না থাকায় অনেকেই ভুল চিকিৎসার শিকার হন।






