মাতামুহুরীর পানি বেড়েছে আরও, ৬ স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন

মাতামুুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ছবি : আগামীর সময়
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে চিরিংগা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
এতে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় অন্তত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, চিরিংগা পয়েন্টে মাতামুহুরী নদীর বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার। বেলা ১২টায় সেখানে পানির উচ্চতা মাপা হয় ৬ দশমিক ৪৮ মিটার। মাতামুহুরীর উজানে বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মাতামুহুরীর উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলার ফজলুর রহমান সিকদারপাড়া, মাবিয়াবাপেরপাড়ায় বেড়িবাঁধে ভেঙে লোকালয়ে বন্যার প্রবেশ করছে। একই ইউনিয়নের আনিছপাড়ার বাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া ভেওলা মানিকচর ইউনিয়নের কন্যারকুম, কোনাখালীর পুরুইত্যাখালী, মরংঘোনার চারটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া চকরিয়া পৌরসভার শহর রক্ষা বাঁধের কোচপাড়া, দিগরপানখালী, পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা, মগনামার চারটি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। এ ছাড়া তিন উপজেলার অধিকাংশ বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে।
চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চকরিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা, পেকুয়ার ৭টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা এবং মাতামুহুরীর ৭টি ইউনিয়নে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে।
চকরিয়ার বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, কাকারা, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর-মানিকপুর, হারবাং, খুটাখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা এবং পেকুয়ার পৌরসভা, টৈটং, মগনামা, বারবাকিয়া, রাজাখালী, উজানটিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, ভেওলা মানিকচর, পশ্চিম ভেওলা, বদরখালী ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে।
এতে তিন উপজেলার গ্রামীণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। চকরিয়া থেকে মহেশখালী সড়কের চার স্থানে সড়কে পানি উপচে পড়ায় যানবাহন চলাচল সীমিত রয়েছে।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কাইছার উদ্দিন বলেছেন, 'ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। মানুষজন চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারের পানির নিচে তলিয়ে গেছে।'
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলছিলেন, 'দুই স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। আনিছপাড়ার বাঁধ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে কোনো রকম বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।'
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানালেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীর সব ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধে ভেঙে গেছে। আর কিছু স্থানে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। ইতিমধ্যে পৌরসভার কয়েকটি স্থানে বালুর বস্তা দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বললেন, ‘মাতামুহুরী নদীর পানি রাতেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এখন ক্রমাগত নদীর পানি বাড়ছে। বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।’






