কুষ্টিয়ার সেই শিক্ষক ছাড়া পেলেন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে

ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় গোলাম কিবরিয়া লালন নামের এক স্কুলশিক্ষককে আটক করেছিল পুলিশ। পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ছাড়া পেয়েছেন প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেই শিক্ষক।
আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ তথ্য জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুল শিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে নির্দেশ দেন, শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দিতে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরে পুলিশ তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে; প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এ সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে।’
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেছেন, ঊর্ধ্বতনের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে নিরাপদে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গতকাল বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালে সম্প্রতি জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা ভাষার উচ্চারণ ও বক্তব্য নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। ক্লাস শেষে তারা বিষয়টি অভিভাবকদের জানায়, যা দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এরই জেরে বুধবার সকালে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল বলেছেন, ‘ঘটনাটি মঙ্গলবার রাতে জানতে পারি। বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষক লালন কটূক্তির বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন— দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে তিনি শুধু একটি মন্তব্য করেছিলেন।’



