মেহেরপুর নার্সিং কলেজ
শুধু শুধু দাঁড়িয়ে আছে ভবন
- আট বছরেও হয়নি চালু
- নির্মাণ ব্যয় ৪০ কোটি টাকা

মেহেরপুর নার্সিং কলেজ। ছবি: আগামীর সময়
ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয় আট বছর আগে। হস্তান্তর জটিলতা, জনবল অনুমোদন ও নার্সিং অধিদপ্তরের অবহেলায় আজও চালু হয়নি মেহেরপুর নার্সিং কলেজের কার্যক্রম। স্থানীয়রা বলছেন, কলেজটি চালু হলে এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী কম খরচে লেখাপড়ার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে দক্ষ নার্স। বাড়বে স্বাস্থ্যসেবার মান। দ্রুত নাসিং কলেজের কার্যক্রম চালুর দাবি এলাকাবাসীর। আর চালুর বিষয়ে সুনিশ্চিত তথ্য নেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে।
জানা যায়, ২০১৭ সালে ১৮০ আসনের মেহেরপুর নার্সিং ট্রেনিং কলেজটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৩৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কলেজটি নির্মাণের অনুমতি পেলেও কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। দফায় দফায় অন্তত সাতবার সময় বৃদ্ধি করে কাজ সম্পন্ন করতে আট বছর লাগে। এরপর এখনো হস্তান্তর হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ২০২০ সালে কাজটি হস্তান্তরের কথা থাকলেও নানা অজুহাতে তা পিছিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ফলে এখনো অনিশ্চিত কলেজটির কার্যক্রম শুরুর সময়। অথচ নার্সিং ট্রেনিং কলেজ নির্মাণের খবরে কম খরচে নাসিং পড়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ সময় কলেজটি চালু না হওয়ায় দূর-দূরান্তে নার্সিং পড়তে যেতে হচ্ছে জেলার কয়েক হাজার ছেলেমেয়েকে।
মেহেরপুর শহরের কৃষক আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, তার দুই মেয়েকে নার্সিং পড়তে দিয়েছেন কুষ্টিয়া ও রাজশাহীতে। দুই মেয়ে দূরে থাকায় পরিবারের সবাই থাকেন দুশ্চিন্তায়। সেই সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকাও খরচ করতে হয় তাদের। ‘জেলায় নার্সিং কলেজ থাকলেও আমরা সুবিধা পাচ্ছি না’— আক্ষেপ তার।
মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের নার্স সাবিনা খাতুন জানালেন, প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে দক্ষ নার্স। ফলে বাড়বে এলাকার স্বাস্থ্যসেবার মান। দ্রুত নার্সিং কলেজের কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।
মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল আমিন ধুমকেতু বললেন, মেহেরপুর একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এ জেলার মানুষ খুবই স্বল্প আয়ে জীবনযাপন করেন। ছেলেমেয়েকে নার্সিং পড়ানোর আশা থাকলেও দূরের জেলায় পড়ানোর সাধ্য থাকে না। কলেজটির কার্যক্রম চালু হলে সবাই তাদের ছেলেমেয়েকে অল্প খরচে নার্সিং পড়ানোর সুযোগ পাবে। না হলে মোটা অঙ্কের ব্যয়ে নির্মিত নার্সিং কলেজের ভবনটি পড়ে থাকবে অবহেলায়।
মেহেরপুর সিভিল সার্জন একেএম আবু সাঈদ বললেন, নাসিং কলেজটির কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠিপত্র পাঠানো হয়েছে— এ ছাড়া আর কোনো তথ্য নেই।




