পাখির ধাক্কায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়, টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় দুর্ভোগ

সংগৃহীত ছবি
বিদ্যুৎ লাইনে একটি পাখির ধাক্কায় টাঙ্গাইলের পাঁচ উপজেলায় দিনভর ঘটেছে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা। এতে ঘাটাইল শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসসহ মধুপুর, ধনবাড়ী, গোপালপুর, ভূঞাপুর ও ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পড়েন কয়েক লাখ গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় এসব এলাকায় বন্ধ ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ। পরে বিকেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও রাত পর্যন্ত ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করতে থাকে বহু এলাকায়।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মধুপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, সকালে একটি বাচ্চা পাখি উড়ে এসে লাগে বিদ্যুৎ লাইনে। সঙ্গে সঙ্গে হয় বিকট শব্দ এবং ফেটে যায় ঘাটাইলের পাকুটিয়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের একাধিক ইনসুলেটর। একই সঙ্গে শর্ট সার্কিটের কারণে গ্রিডের বাসবার আইসোলেটরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্টসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি আরও বলেছেন, গ্রিডের নিয়ম অনুযায়ী এনএলডিসি থেকে লিখিত অনুমতির মাধ্যমে নেওয়া হয় শাটডাউন। সকাল সাড়ে ৬টায় লাইন বন্ধ হওয়ার পর শুরু হয় ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতের কাজ। বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শেষ করা হয় শাটডাউন কার্যক্রম। পরে বিকেল ৩টার পর চালু করা হয় ৩৩ কেভি লাইন এবং পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করা হয় বিভিন্ন ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
তবে বিদ্যুৎ চালু হওয়ার পরও ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দেয় ক্ষোভ।
মধুপুর পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার ব্যবসায়ী এরশাদ হোসেন রাশেদ বলেছেন, ‘সারা দিন অপেক্ষার পর বিকেলে বিদ্যুৎ এলেও ঘন ঘন চলে যাওয়ায় পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।’
গোপালপুর উপজেলার জোতগোপাল গ্রামের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, ‘ভ্যাপসা গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় খুব কষ্ট পেয়েছে মানুষ। দিনটি ছিল অত্যন্ত দুর্ভোগের।’
নবগ্রামের মাদরাসাশিক্ষক সেলিম ও ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, ‘সারা দিন ছিল না বিদ্যুৎ। সন্ধ্যায় ৫ থেকে ৭ মিনিটের জন্য এলেও আবার চলে গেছে।’
বিদ্যুৎহীন অবস্থায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেছেন ঘাটাইল উপজেলার দেওলাবাড়ীর রফিক, এনায়েত হোসেন এবং শাহপুরের আফজাল হোসেনও।
রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।




