তিতাস
গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ স্বামী-শাশুড়ি-দেবরের বিরুদ্ধে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমিল্লার তিতাসে রাস্তায় ফেলে স্ত্রী নুপুর আক্তারকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী নাজমুল হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নুপুর আক্তার বাদী হয়ে স্বামী নাজমুল হোসেন, শাশুড়ি রত্না বেগম ও দেবর আলিফ মিয়ার বিরুদ্ধে গত ১৩ আগস্ট রাতে তিতাস থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে নুপুর আক্তার উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে উপজেলার কড়িকান্দি গ্রামের সাধনা বেগমের বিল্ডিংয়ের পশ্চিম পাশে গৌরীপুর-হোমনা সড়কে দাঁড়িয়ে গৌরীপুর যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় নাজমুল হোসেন, তার মা রত্না বেগম ও ভাই আলিফ মিয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সেখানে আসেন। তাকে দেখতে পেয়ে তারা গাড়ি থেকে নেমে অতর্কিতভাবে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন নুপুর।
নুপুরের অভিযোগ, প্রায় সাত মাস আগে না জমুল হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তখন নাজমুল তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য করেন। পরে ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রেজিস্ট্রি কাবিননামার মাধ্যমে ইসলামি বিধি অনুযায়ী তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নাজমুলকে ৭ লাখ টাকা দিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি আইফোন এবং ২ লাখ টাকা দিয়ে একটি আর ওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি করেছেন নুপুর। বিয়ের দেড় মাস পর নাজমুল ইউরোপে যাওয়ার কথা বলে তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। তখন গৌরীপুর বাজারে থাকা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রাঙ্গা বউ বিউটি পার্লার ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি। জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নাজমুল ওই টাকা নেন বলেও দাবি করেন নুপুর।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে তার কাছ থেকে আরও কয়েক লাখ টাকা ধার নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। কিছুদিন আগে নুপুর জানতে পারেন, নাজমুলের আগে থেকেই একজন স্ত্রী ও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবং টাকা ফেরত চাওয়ার পর তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন নুপুর।
এর আগে নুপুর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ তার দেওয়া সিএনজি, মোটরসাইকেল ও আইফোন উদ্ধার করে দেয়। তবে নগদ টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। থানায় একাধিকবার বিচার-সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে জানান নুপুর।
অভিযুক্ত নাজমুল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।
নাজমুলের মা রত্না বেগম জানিয়েছেন, তার ছেলে আগে বিয়ে করেছেন এবং একটি নাতনি রয়েছে। নুপুরের সঙ্গে কখন, কীভাবে তার ছেলের বিয়ে হয়েছে, তা তারা জানেন না। তার ভাষ্য, নুপুর তার ছেলেকে যেসব জিনিস দিয়েছিলেন, সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে।
রত্না বেগম বলেন, থানায় বসে বিচার হয়েছে। গ্রামের সর্দাররা বলেছেন ৩ লাখ টাকা দিয়ে দিতে। এই মেয়ে নুপুর মানছে না। সেচায় আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে। আপনারাই বলেন? আমার নাতনী, আমার বউ কই যাইবো।” এ কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গ্রামের সর্দার কামাল ফকির জানিয়েছেন, বিচার-সালিশে তারা জানতে পারেন নাজমুল দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন এবং নুপুরের কাছ থেকে সিএনজি, মোটরসাইকেল ও আইফোন নিয়েছেন। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এগুলো উদ্ধার করে নুপুরকে ফেরত দেওয়া হয়। ছেলের পরিবার অত্যন্ত গরিব হওয়ায় নুপুরকে ৩ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে নুপুর তাতে রাজি না হওয়ায় বিচারটি অসমাপ্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিতাস থানার ওসি মমিরুল হক জানিয়েছেন, স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় নুপুর আক্তারের একটি অভিযোগ পেয়েছেন তারা। এর আগে দেওয়া আরেকটি অভিযোগের পর তার সিএনজি, মোটরসাইকেল ও আইফোন উদ্ধার করে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







