পানি নেই তবুও হচ্ছে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার সেতু

ছবি: আগামীর সময়
নদী বা খালে নেই পানিপ্রবাহ। তবুও চলছে সেতুর নির্মাণ কাজ। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। এমনই এক প্রকল্পের সন্ধান মিলেছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়।
প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা। জনমনে আছে নানা প্রশ্ন। বর্ষা মৌসুমেও যেখানে পানিপ্রবাহ থাকে না— সেখানে কেন এত ব্যয়বহুল সেতু নির্মাণ প্রকল্প? প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সমীক্ষা ও বাস্তবতা যাচাই হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। বিপুল অর্থ ব্যয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সেতু নির্মাণ জনস্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সেতু নির্মাণ স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশেই বড় একটি পোশাক কারখানা। সেতুর উত্তর পাশে আধাপাকা, টিনের তৈরি বাড়ি ও দোকান। দক্ষিণ দিকে হচ্ছে একাধিক বহুতল ভবন। সেতু নির্মাণ কাজ চললেও এর দুই পাশে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠছে বিভিন্ন স্থাপনা। তাতে পানিপ্রবাহে তৈরি হবে আরও বেশি প্রতিবন্ধকতা।
বর্তমানে চলছে পাইলিংয়ের কাজ। সেতু নির্মাণের সময় প্রকল্প এলাকায় তথ্য সম্বলিত সাইনবোর্ড বা প্রকল্প ফলক লাগানোর নিয়ম থাকলেও তা নেই।
স্থানীয় ধানকোড়া এলাকার বাসিন্দা রেজা জামান জিপু। বললেন, ‘কি কারণে কোনো নদী বা খাল না থাকার পরেও এখানে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। এক যুগের বেশি সময় এখানে পানি নেই।’
‘দুই পাশে বিভিন্ন পাকা, আধাপাকা স্থাপনা গড়ে উঠায় সেতুর নিচ পর্যন্ত পানি আসারও ব্যবস্থা নেই। এত টাকা খরচ করে সেতু না বানালেও হতো,’ যোগ করেন তিনি।
সেতু নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফজলুল হক। তার ভাষ্য, ‘সেতুটি নির্মাণে বরাদ্দ ১৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।’
এ জায়গায় সেতুর প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলে বললেন, ‘সেতুর নিচ দিয়ে আন্ডার পাস হবে। মহাসড়কের ওপর দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে না। সেতুটি নির্মাণ হলে কমে যাবে সড়ক দুর্ঘটনা।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, রাস্তাটি চার লেনের। পর্যায়ক্রমে একটার পাশে আরেকটা সেতু হচ্ছে। এখানে পাকিস্তান আমলে বানানো একটি সেতু ছিল। পুরনো সেতুটি অনেক সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। তার বদলে বড়, নতুন সেতু করা হচ্ছে।
‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো জায়গায় সেতু বা কালভার্ট থাকলে ইচ্ছে মতো সেটি ভাঙা যায় না। নদী বা খাল থাকলে ভরাট করা যায় না। ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখানে হয়তো বর্তমানে পানিপ্রবাহ নেই। কিন্তু কখনো আকস্মিক বন্যা হলে যাতায়াত ব্যবস্থার ক্ষতি হবে। সেই পরিকল্পনা থেকেই নতুন ও বড় সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে এখানে’।





