জামালপুরে আশ্রয়ণের অর্ধেক ঘর ফাঁকা, মাদকের আড্ডা

ফাঁকা পড়ে আছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। ছবি: আগামীর সময়
গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিতে নির্মিত জামালপুরের নাওভাঙা চর আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক ঘরই এখন ফাঁকা। সরকারি হিসাবে ১৮৮টি ঘরের ১০৮টিতে পরিবার থাকলেও ৭১টি ঘরে ঝুলছে তালা। আরও ৯টি ঘর অবৈধভাবে দখলের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফাঁকা ঘরগুলোতে সন্ধ্যার পর মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। অথচ যাদের নামে ঘর বরাদ্দ, তাদের কয়েকজনের নিজস্ব বাড়ি-জমি থাকার অভিযোগও রয়েছে। জেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২ হাজার ৯৫৭টি ঘর রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুর পৌর শহরের নাওভাঙা চরে ফসলের মাঠের পাশে দুই কিলোমিটার এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-৫-এর চতুর্থ পর্যায়ে ৩ একর ৪০ শতাংশ জমিতে নির্মিত হয় ১৮৮টি ঘর। বর্তমানে বহু ঘরের দরজায় তালা। ফাঁকা ঘরগুলোর চারপাশ আগাছায় ঢেকে গেছে। কোথাও বারান্দায় লাকড়ি, কোথাও গবাদি পশু রাখা হয়েছে।
বাসিন্দা রওশন আরা বেগম বললেন, ‘গরিবরা ঘর পাননি। অনেকের জমি ও ঘরবাড়ি আছে, তারাও ঘর পেয়েছেন। ফাঁকা ঘরে নেশাখোররা তালা ভেঙে ঢোকে। রাতের বেলায় ভয় লাগে।’
আশ্রয়ণের কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, প্রায় ৯৫ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রকল্পে থাকেন না। তাদের কেউ নিজ বাড়িতে, কেউ শহরে ভাড়া বাসায় থাকেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দের সময় যথাযথ যাচাই হয়নি। সদর উপজেলা ইউএনও নাজনীন আখতার বললেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পানি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সমস্যার সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
একই চিত্র মেলান্দহের খাশিমারা, পূর্ব শ্যামপুর ও দুই নম্বর চর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। ৬০টি ঘরের খাশিমারায় মাত্র ২০ পরিবার, পূর্ব শ্যামপুরের ৪০টির মধ্যে ১০টি এবং দুই নম্বর চরের ২৪টির মধ্যে ১২টি ঘরে পরিবার বসবাস করছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফাঁকা ঘরে মাদকের আড্ডা বসে।



