গোবিন্দগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকের ৬২% ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ

ছবি: আগামীর সময়
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৬৯টি। তবে এর মধ্যে ৪৩টিই জরাজীর্ণ। অর্থাৎ উপজেলার প্রায় ৬২ শতাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন নাজুক। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় এসব ভবনের দেয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে পলেস্তারা। কোথাও দরজা-জানালা ভাঙা, কোথাও দেবে গেছে মেঝে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই চলছে গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট। ফলে এসব ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল মানুষ, বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও দরিদ্র রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রয়োজনীয় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা। অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকার মানুষের পক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা অন্য চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়া কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে কাছের কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া এবং সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়া তাদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার পথ আরও সংকুচিত করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, ঝুঁকিপূর্ণ ৪৩টি ক্লিনিকের মধ্যে ফুলবাড়ী ইউনিয়নে রয়েছে চারটি। এ ছাড়া নাকাইয়ে তিনটি, কাটাবাড়ীতে তিনটি, হরিরামপুরে দুটি, তালুককানুপুরে পাঁচটি, মহিমাগঞ্জে তিনটি, শালমারায় তিনটি, শাখাহারে তিনটি, কোচাশহরে দুটি, রাখালবুরুজে দুটি, রাজাহারে একটি ও গুমানীগঞ্জে তিনটি ক্লিনিক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ।
অধিকাংশ ভবন প্রায় ২৬ বছর আগে নির্মিত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেগুলোর অবস্থা ক্রমেই নাজুক হয়ে পড়েছে। অনেক ক্লিনিকের ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। এতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বেশ কিছু ভবনের ছাদের কার্নিশসহ বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ক্লিনিকে নেই উপযুক্ত শৌচাগার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। রোগীদের বসার পরিবেশও ভালো নয়। ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে রোগীদের একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে, অন্যদিকে ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগে থাকতে হচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মীদের।
নাকাই ইউনিয়নের খুকশিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মাহমুদ আরাফাত মিশনের ভাষায়, ক্লিনিকটির একটি অংশ ধসে পড়েছে। প্রায় ২৫ বছর আগে নির্মাণের পর থেকে ভবনটি মেরামত করা হয়নি। এ অবস্থায় রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে তাদের আতঙ্কে থাকতে হয়।
একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন কুঞ্জমালঞ্চা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি শরিফুল ইসলাম। তার ভাষ্য, ভবনটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, সেখানে চিকিৎসাসেবা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, জীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
জীর্ণ ভবনের পাশাপাশি ওষুধের অভাবও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সেবাকে ব্যাহত করছে।
ক্লিনিকসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, উপজেলার অধিকাংশ ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুদ থাকে না। ফলে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং সাধারণ রোগের চিকিৎসা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়ার আশায় দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফিরে যান।
নাকাই ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহেদুন্নবী সরকার জানালেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে গ্রামীণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য অন্তত ২০ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ পাওয়া যায় না। মাঝেমধ্যে অল্প কিছু ওষুধ সরবরাহ করা হলেও তা দিয়ে রোগীদের চাহিদা পূরণ হয় না।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও ওষুধের সংকটের বিষয়ে কথা বলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান মোল্লা। তার দাবি, যেসব কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোর তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ওষুধ সংকটের বিষয়টিও স্বীকার করে তিনি বলছেন, এটা নিয়েও বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।



