জামিনের পরও মুক্তি মিলল না সাবেক এমপি সেঁজুতির, নতুন মামলায় শোন অ্যারেস্ট

আদালতে সাবেক এমপি সেঁজুতি— সংগৃহীত
উচ্চ ও নিম্ন আদালত থেকে একাধিক মামলায় জামিন পাওয়ার পরও কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন না সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদকও। এবার তাকে ২০১৫ সালের একটি হত্যা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মণ্ডলের আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের পর দু'দফা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের জামায়াত কর্মী শহিদুল ইসলামকে তিনটি কালো মাইক্রোবাসে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে গভীর রাতে যশোরের পিকনিক কর্নারের সামনে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সে সময় পুলিশ ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে এবং নিহতের পরিবারকে হুমকি দেয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট নিহতের ভাই মো. ইমদাদুল হক বাদী হয়ে তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন। ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়। এ মামলায় সেঁজুতিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২০ মে শহরের রাধানগরের নিজ বাড়ি থেকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় সেঁজুতিকে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই বছরের ১ জুন ও ২৫ জুন আরও দুটি পৃথক মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
তার ভাষ্য, চলতি বছরের ৩ জুন হাইকোর্ট সর্বশেষ মামলায় সেঁজুতিকে জামিন দেন, যা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। ১৩ জুন জামিননামা সম্পন্ন হওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তির আগেই জিআর ৩৯৯/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। এরপর ২৫ জুন সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিলে ২৯ জুন আবার জিআর ৪০২/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সর্বশেষ ৯ জুলাই জেলা ও দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন। তবে সোমবার জিআর ৪০৩/২৪ নম্বর হত্যা মামলায় নতুন করে শোন অ্যারেস্টের আদেশ দেওয়ায় সাবেক এই সংসদ সদস্যের কারামুক্তির পথ আবারও বন্ধ হয়ে গেল।





