ক্ষুদে বার্তার ফাঁদে স্কুল শিক্ষক, খোয়ালেন ৬ লাখ টাকা
- চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার যশোরে

প্রতারক চক্রের সদস্য ফারুক হোসেন।
কুমিল্লায় এক স্কুল শিক্ষকের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে হ্যাক করে প্রায় ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম সদস্য ফারুক হোসেনকে (৫৫) যশোর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি চক্রের অন্য সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ মজুমদারের মোবাইলে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট যাচাই করার প্রলোভন দেখায় প্রতারক চক্র। তিনি সিটি টাচ অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করার পরপরই তার মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় প্রতারকদের হাতে এবং সেটি অচল হয়ে পড়ে।
পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার সিটি ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি পৃথক হিসাবে মোট ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। একটি ব্র্যাক ব্যাংকে থাকা ‘ফারুক রাইস এজেন্সি’র হিসাবে এবং অন্যটি পুবালী ব্যাংকের মেহেরপুর শাখায় ‘জে. জে. এন্টারপ্রাইজ’-এর হিসাবে পাঠানো হয়। এছাড়া জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকেও বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে দুই দফায় আরও ৪৬ হাজার ৭৮৯ টাকা তুলে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতারক চক্রটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৯ টাকা আত্মসাৎ করে।
এ ঘটনায় গত ১৬ মার্চ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই কুমিল্লা।
তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করে পিবিআই। গত ১৭ জুন পিবিআই কুমিল্লা ও যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা এলাকা থেকে ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত মোসলের মোল্লার ছেলে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর ফারুক হোসেন প্রতারণার কৌশল এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের দাবি, চক্রটি তথ্যপ্রযুক্তিতে অত্যন্ত দক্ষ। তারা অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ব্যাংক হিসাবের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করতে সক্ষম। ভুক্তভোগীর অর্থ উদ্ধারে কাজ চলছে।
পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান জানালেন, মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা ও ওটিপির মাধ্যমে মানুষের মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে একটি বড় সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়। ওই স্কুল শিক্ষকের মামলার তদন্তে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর চক্রটি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








