হর্ন বাজানোর জেরে পুলিশ সদস্যকে ‘মারধর’, ভিডিও ভাইরাল

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্ক্রিনশট থেকে নেওয়া ছবি।
মাগুরায় এক পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি নাঈমুজ্জামান নয়নের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
হেনস্তার শিকার পুলিশ সদস্যের নাম মো. ইমরান হোসেন। তিনি মাগুরা পুলিশ কন্ট্রোলরুমের কনস্টেবল।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের মাইক্রোবাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন নয়ন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন ইমরান। মাইক্রোবাসস্ট্যান্ড এলাকায় হর্ন বাজান নয়ন। হর্ন শুনেও রাস্তা থেকে না সরায় কারণ জানতে চান তিনি। এর জেরে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নয়ন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করেন। তাকে সহযোগীতা করেন মাগুরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কমলা রঙের টি-শার্ট পরা নয়ন পুলিশ সদস্যের মোটরসাইকেলের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে আটকে রেখেছেন। একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে আরও লোকজনকে ডাকেন এবং পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। ভিডিওতে নয়নকে নিজেই ঘটনার দৃশ্য ধারণ করতেও দেখা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নয়নের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও মাইক্রোবাস ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে নাইমুজ্জামান নয়ন বলেছেন, ‘ঠিকাদারি কাজ শেষে মাইক্রোবাস চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। মাইক্রোবাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে যানজটে আটকা পড়ি। সামনে থাকা ওই পুলিশ সদস্যকে বারবার হর্ন দিলেও তিনি সাইড দেননি। এ নিয়ে তার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। তিনি গালাগালি করায় তার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে একটি থাপ্পড় দিয়েছি।’
নয়ন মাগুরা সদর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘কারও কোনো ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার দল নেবে না। প্রশাসনের কাছে আমাদের কোনো সুপারিশও নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
মাগুরা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের ভাষ্য, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি শুক্রবার বিকালের। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। আইনগত বিষয়ে পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।








