আওয়ামী লীগ মিছিল করতে পারছে জামায়াতের কারণে, দাবি রাশেদের

ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: আগামীর সময়
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল করার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর মদদ রয়েছে বলে দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
তিনি বলেছেন, গুলশানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে গোপনে হয়তো তারা যোগাযোগ করে এই মিছিল করেছে।
রাজধানীর গুলশানে গতকাল আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মিছিল বের করার দিকে ইঙ্গিত করে আজ ঝিনাইদহে সাংবাদিকদের একথা বলেন রাশেদ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ এবং জেলা প্রশাসন আয়োজিত সচেতনতামূলক শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির থেকে অংশ নেওয়া রাশেদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক বোঝাতে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেছেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে জামায়াতে ইসলামী বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। এবারও আওয়ামী লীগ জামায়াতের কারণে আন্দোলন করার সাহস পাচ্ছে।
রাশেদ আরও বলেছেন, ‘জামায়াত নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরলে তাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা বলতে চাই, দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর মেনে নেবে না।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী রাশেদের এ বক্তব্যের বিষয়ে জামায়াতের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা, সংসদ সদস্য প্রার্থী দিলশানা পারুল উল্টো ক্ষমতাসীন বিএনপিকেই দায়ী করেছেন।
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল নিয়ে তিনি গতকাল এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘বিএনপি না চাইলে আওয়ামী লীগ গুলশানে কেন, বাংলাদেশের কোথাও মিছিল করার হিম্মত রাখে না। আওয়ামী লীগ মিছিল বের করে, কারণ বিএনপি চায়।’
নিজের এই বক্তব্যের পেছনে যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘বিএনপির রাজনৈতিক হিসাব হচ্ছে, জামাতকে তারা রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী বলে নিজেরা সাইজে রাখবে। আর আওয়ামী লীগকে দিয়ে এনসিপিকে সাইজে রাখবে। এটা হচ্ছে বিএনপির হিসাব।’
দৃুই বছর আগে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পরও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখেও পড়ছে। গতকাল গুলশানের মিছিল থেকেও ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুুলিশ।




