সপ্তাহ ধরে পানিবন্দি লাইল্যাঘোনা, দুর্ভোগে দুই শতাধিক পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাম্প্রতিক বন্যার পানি অধিকাংশ এলাকা থেকে নেমে গেলেও লাইল্যাঘোনা এলাকায় এখনো কাটেনি জলাবদ্ধতা। বন্যার প্রায় এক সপ্তাহ পরও সেখানে জমে থাকা পানি না নামায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার নিচু ভূপ্রকৃতি, পানি নিষ্কাশনের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং খাল-নালার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বন্যার পানি দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। এতে বসতঘর, আঙিনা ও গ্রামের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো এখনো পানির নিচে রয়েছে।
বর্তমানে এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে নৌকা। জরুরি প্রয়োজনে বাজার, হাসপাতাল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে স্থানীয়দের নৌকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই বাড়ছে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা উদ্বেগে রয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় গবাদিপশু পালনকারীরাও বিপাকে পড়েছেন। গোয়ালঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গরু-ছাগল নিরাপদ স্থানে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে, অনেক জায়গায় শুকনো খড় ও খাদ্য নষ্ট হয়ে গেছে। খামারিদের আশঙ্কা, এতে গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
“অন্য এলাকার পানি অনেক আগেই নেমে গেছে, কিন্তু আমাদের এলাকায় এখনো ঘরের ভেতরে পানি। কোথাও যেতে হলে নৌকা ছাড়া উপায় নেই।”
— মো. খলিল, স্থানীয় বাসিন্দা
“ঘরে শুকনো জায়গা নেই। চুলা, টিউবওয়েল ও বাথরুম এখনো পানির নিচে। বিশুদ্ধ পানিরও সংকট রয়েছে।”
— জরিদা বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা
এলাকাবাসীর দাবি, লাইল্যাঘোনায় জলাবদ্ধতার সমস্যা নতুন নয়। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই বন্যার পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। পানি নিষ্কাশনের খাল পুনঃখনন, প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান বললেন, লাইল্যাঘোনা এলাকায় পানি আটকে থাকার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের সমস্যাগুলোও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে এলাকাবাসীর মতে, শুধু ত্রাণ সহায়তা দিয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। ভবিষ্যতে যাতে প্রতি বর্ষায় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য দ্রুত কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল পুনঃখনন এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসনে বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।




