দিনাজপুরে লিচু চাষ : হাজার কোটি টাকা বিক্রির আশা

ছবি: আগামীর সময়
সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে মাঝারি আকারের গুটি গুটি লিচু। সেই লিচু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের লিচুচাষিরা। এবার জেলায় হাজার কোটি টাকার লিচু বিক্রির কথা জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হচ্ছে। জেলার ১৩ উপজেলা মিলে বাগান রয়েছে ১০ হাজার ৬৬টি। এসব লিচুবাগান থেকে ৩৭ হাজার ৫০০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি হিসাবে যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে হাজার কোটি টাকা।
তবে বেসরকারিভাবে জেলায় এ বছর দেড় হাজার কোটি টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন চাষিরা।
লিচুচাষিদের ভাষ্য, এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল আসলেও কয়েক দফার শিলাবৃষ্টিতে তা ঝরে যায়। এরপরেও নিয়মিত পরিচর্যায় ৭০ ভাগ মুকুল গুটি লিচুতে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভের আশার কথা জানিয়েছেন তারা।
এসব লিচু বাগান থেকে ৩৭ হাজার ৫০০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকার লিচু কেনা-বেচা হবে
জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক হামিদ জানান, এ বছর কয়েক দফার শিলাবৃষ্টিতে মুকুলের কিছুটা ক্ষতি হলেও গুটি লিচু দেখে মন ভরে যাচ্ছে। নিয়মিত কৃষি অফিসের পরামর্শে পরিচর্যা করে যাচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।
তার মতো জেলার লিচুচাষিরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে সেটি নির্ভর করবে আবহাওয়ার ওপর। কারণ অতি গরম আর শিলাবৃষ্টিতে লিচু গুটি নষ্টের সম্ভাবনা থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলায় লিচুর চাষাবাদ হলেও সবথেকে বেশি হয় সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ ও খানসামা উপজেলায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন আগামীর সময়কে বলেছেন, জেলার ১৩টি উপজেলায় ১০ হাজার ৬৬টি লিচুবাগান রয়েছে। এ বছর ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হচ্ছে। এসব লিচুবাগান থেকে ৩৭ হাজার ৫০০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকার লিচু কেনা-বেচা হবে।
এই কর্মকর্তা জানালেন, লিচুর বাম্পার ফলন নিশ্চিতে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।




