১২ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছিলেন আদৃত

টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা আদৃত রায়। ছবি: সংগৃহীত
টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা আদৃত রায় প্রথমবারের মতো জীবনের ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পায়ে রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা থেকে তা ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ায় একসময় তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। টানা ১২ দিন তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আদৃত রায় জানান, একসময় হঠাৎ করেই ছোটপর্দা থেকে কিছুদিনের জন্য আড়ালে চলে যান তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, স্বেচ্ছায় বিরতি নিয়েছেন বা প্রস্তুতি নিচ্ছেন নতুন কাজের। কিন্তু বাস্তবে গুরুতর শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, সামান্য অবহেলা করলেই পরিস্থিতি হতে পারত প্রাণঘাতী।
অভিনেতা তুলে ধরেন, ‘মিঠাই’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা এবং অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে তার পায়ে তৈরি হয় রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা। প্রথম দিকে বিষয়টিকে সাধারণ ব্যথা বা ক্লান্তি মনে করে গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে সেই অবহেলাই বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তিনি জানান, ‘মিত্তির বাড়ি’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালে পায়ের রক্ত জমাট বাঁধা অংশ রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে ফুসফুসের ধমনীতে পৌঁছে যায়। এরপর হঠাৎ তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য ছিল, আর একদিন দেরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারত।
পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে তাকে টানা ১২ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিতে হয়। নিবিড় পর্যবেক্ষণ, ওষুধ এবং চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। দীর্ঘ বিশ্রামের পর আবার অভিনয়ে ফিরতে সক্ষম হন।
এই অভিজ্ঞতা তার জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দিয়েছে। আদৃত রায়ের উপলব্ধি, ‘কাজ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কিন্তু শরীর তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শরীর যখন বারবার সতর্কবার্তা দেয়, তখন সেটিকে কখনও অবহেলা করা উচিত নয়।’
বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন তিনি এবং নতুন উদ্যমে ‘কুমকুম’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ে ব্যস্ত। নিজের অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সাফল্যের দৌড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না। সময়মতো শরীরের যত্ন নিন, কারণ সুস্থ থাকলেই স্বপ্ন পূরণের লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।’




