হবিগঞ্জ
‘মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’ স্লোগানে উত্তাল চা-বাগান, মজুরির দাবিতে আন্দোলনে শ্রমিকরা

আজ বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের লালচাঁন চা বাগানের দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে চা শ্রমিকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: আগামীর সময়।
‘মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও’—এ স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছেন হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের চারটি চা বাগানের শ্রমিকরা। টানা দুই দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করেও মজুরি না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এমনকি আগামী তিন সপ্তাহেও মজুরি দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের দাবি, মালিক পরিবর্তন করতে হবে, নতুবা তাদের মজুরিসহ সব পাওনা পরিশোধ করতে হবে।
আজ বুধবার দুপুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁন চা বাগানের দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে শ্রমিকদের এক সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে চারটি বাগানের শ্রমিক নেতারা অংশ নেন। বাগানগুলো হলো—হবিগঞ্জের মাধবপুরের নোয়াপাড়া, চুনারুঘাটের লালচাঁন ও দেউন্দি এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিংগা চা বাগান।
এসব বাগানে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সমাবেশে নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী মিরা কৈরী বলেন, ‘মালিক হঠাও, বাগান বাঁচাও। কারণ, এ বাগানের মালিকের কথার কোনো দাম নেই। শ্রমিক না বাঁচলে বাগান বাঁচবে না। এই বাগানগুলো বাঁচাতে মালিকের কোনো উদ্যোগ নেই। আমরা না খেয়ে আছি। আমাদের মজুরি আটকে রাখা হয়েছে।’
তিনি জানিয়েছেন, শুধু তিনি নন, তার মতো অনেক চা শ্রমিকেরই একই দাবি। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না হওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
সমাবেশে শ্রমিকরা জানান, ২০২২ সাল থেকে বাগানগুলোতে শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে টালবাহানা চলছে। মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে বারবার আলোচনা করেও কোনো সমাধান হয়নি। তারা বাগান ব্যবস্থাপকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন; কিন্তু তাদের দাবি কেউ শোনেননি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত তিন সপ্তাহের মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহেও মজুরি দেওয়া সম্ভব হবে না। তাদের ভবিষ্যৎ তহবিলের টাকা এবং সরকারি অনুদানের চার হাজার টাকা আটকে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ অবস্থায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।




