তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে শিগগিরই : পানিসম্পদ মন্ত্রী

বক্তব্য রাখছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ছবি: আগামীর সময়
তিস্তাপারের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
আজ শুক্রবার বিকালে তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তিস্তা নদীর অববাহিকায় বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সংরক্ষিত পানি কৃষিকাজ ও মৎস্যচাষে ব্যবহার করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, তিস্তা নদীতে ড্রেজিং, পানি সংরক্ষণ এবং নদী ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে বর্তমানে কারিগরি সমীক্ষা চলমান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে নয় সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি ও বাস্তবায়নযোগ্য বিষয় পর্যালোচনা করছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর ভাষ্য, তিস্তাপারের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব এবং নদীকেন্দ্রিক সমস্যার টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও পরিকল্পিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক সরেজমিনে পরিদর্শন ও মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের ভাষ্য, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কারিগরি ও বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা চলছে। প্রকল্পটির প্রতিটি দিক গভীরভাবে মূল্যায়ন করে একটি টেকসই ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চলতি বছরের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে এবং প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী এনায়েত উল্লাহ, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান এবং পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




