স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবকের পায়ের গোড়ালি ক্ষতবিক্ষত

আহত যুবক
কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে স্থলমাইন বিস্ফোরণে হামিদ হোসেন (৩০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে তার ডান পায়ের গোড়ালি ক্ষকবিক্ষত এবং বাম পায়েও আঘাত লেগেছে।
আহত অবস্থায় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর বিজিবি ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ এর উত্তর পাশে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
আহত হামিদ হোসেন উখিয়ার কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-২৭ ব্লকের বাসিন্দা। তিনি ওই ব্লকের মৃত কালাম হোসেনের ছেলে।
সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৯ থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তরে, বিওপি থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ২৫০ গজ পশ্চিমে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, মাইন বিস্ফোরণে হামিদ হোসেন আহত হয়েছেন। পরে তিনি আহত অবস্থায় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে পাঠান। কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হামিদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে তাকে সেখানে পাঠানো হয়।
সীমান্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থলমাইনের ঝুঁকি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত বছরের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ৪০টির বেশি স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এক বিজিবি সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪২ জনের বেশি মানুষ। তাদের অনেকেই গুরুতর আহত হয়ে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।



