অনুদানের তালিকায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম, বরখাস্ত পিএস

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু— সংগৃহীত
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমান বাচ্চুর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আজ রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এমপি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে বরখাস্তের চিঠি পোস্ট করেছেন। চিঠিতে নিজের সিল ও স্বাক্ষর রয়েছে।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮ জুন থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ তবে কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা, তা চিঠিতে উল্লিখিত হয়নি।
এদিকে, আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় পাওয়া গেছে তার মেয়ের নাম। এ ঘটনা শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর পিএস গোফরানকে বরখাস্ত করার চিঠিটি প্রকাশ করা হলো। গত শুক্রবার আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানের তালিকার চিঠি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, ‘সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো।’
চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নাম। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে একটিতে মো. বাচ্চু এবং অপরটিতে মো. আতাউর। দু’টি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে মন্তব্য করেন নেটিজেনরা। এ ছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই আতাউর রহমান বাচ্চুর নিজ এলাকা হবখালী ইউনিয়নের এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ভাষ্য, এই তালিকাটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তিনি দাবি করে বলেছেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল যে এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই, সংসদীয় আসনের সব ইউনিয়ন থেকে নামের তালিকা দিতে। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড পিএসের কাছে ছিল। কিন্তু, পিএস আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু এটা আমি চাইনি।’
তিনি আরও বললেন, ‘অনুদানের টাকাটা যে আসছে, তাও আমি জানতাম না। অনুদানপত্রটি শুক্রবার ফেসবুকে প্রচারের পর আমি ইউএনওকে বললাম, টাকা আসছে কিনা। ইউএনও আমাকে জানিয়েছেন, স্যার টাকা তো আসছে। আমি বললাম, আমাকে তো জানাননি। তালিকায় যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে।’
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবিরের ভাষ্য, ‘এমপি স্যারের ডিও লেটার অনুযায়ী তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ এসেছে, তাদেরই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে যদি কেউ না আসেন, তার টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু এখান থেকে নতুন তালিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তালিকা সংশোধন করতে হলে সচিবালয় থেকেই করতে হবে।’





