বগুড়ায় দুই মাসে হাম উপসর্গে ২৩ শিশুর মৃত্যু

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ায় গত দুই মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় হাম সন্দেহে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৭টি শিশু।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ মার্চ বগুড়ায় প্রথম হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর পর থেকে এ পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ৭০৫ জন ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৩৮ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। মোট ২১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৬২৭ জনকে সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮০ জনই বগুড়া জেলার বাসিন্দা।
বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ৪৯ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৪ জন এবং টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ায় ১ এপ্রিল থেকে ১ জুন পর্যন্ত মারা যাওয়া ২৩ শিশুর মধ্যে দুজনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। বাকি শিশুদের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। মৃত শিশুদের মধ্যে ১০ জন বগুড়ার বাইরের জেলার বাসিন্দা। তারা চিকিৎসার জন্য শজিমেক হাসপাতালে এসেছিল।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ এপ্রিল রাতে শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী এলাকার আতিকুল ইসলামের ১০ মাস বয়সী ছেলে রাইয়ান হামে আক্রান্ত হয়ে প্রথম মারা যায়। পরে ২৩ মে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার ৯ মাস বয়সী শিশু আয়াতের মৃত্যু হয়। পরীক্ষায় তার শরীরেও হাম শনাক্ত হয়। সর্বশেষ ১ জুন নন্দীগ্রাম উপজেলার কুন্দারহাট এলাকার ৪ মাস বয়সী আদিবা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যায়।
শজিমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন বিভাগের ইনচার্জ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, অধিকাংশ শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। তবে যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের অনেকের শরীরে রক্তস্বল্পতা, পুষ্টিহীনতা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া, কয়েকটি শিশু অন্য জটিল রোগেও আক্রান্ত ছিল।
শজিমেকের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আবুল ফজল জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে শিশুদের শরীরে প্রয়োজনীয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে এবং মৃত্যুর হার কমে আসবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বগুড়ায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য ছিল। এর বিপরীতে ৩ লাখ ৮৭ হাজার শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। মে মাস জুড়ে এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন মো. খুরশীদ আলম জানিয়েছেন, জেলায় হামের টিকাদানের হার প্রায় ১০২ শতাংশ। তার ভাষ্য, টিকা দেওয়ার ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শরীরে প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করে। তবে কার্যকর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে।




