সাতক্ষীরায় চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা কারাগারে

চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরার জামায়াত নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
জাইকার অর্থায়নে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজির মামলায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের জামায়াত নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকেও একই মামলায় পাঠানো হয়েছে কারাগারে।
আজ সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী। বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার এসব নিশ্চিত করেছেন।
গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন। তাতে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।
মামলায় প্রধান আসামি বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তিনি উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য। এই মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ আরও কয়েকজন আসামি আছেন।
এজাহারের তথ্য, উপজেলার পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে আর-রাদ করপোরেশন। গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
মামলায় অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নজরুল ইসলাম। তা না দিয়ে কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকিও দেন।
এরপর ২৩ মে দুপুরে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন। বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধর করা হয়। এসবও বলা আছে এজাহারে।
বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, এসব অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।





