নড়াইলে আনোয়ার হত্যা মামলার আরও ২ আসামি গ্রেপ্তার

আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি। সংগৃহীত ছবি
নড়াইলে আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল শুক্রবার রাতে যশোর ও ফরিদপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মামলার প্রধান আসামি নড়াইল সদরের উত্তর খলিশাখালী গ্রামের প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (২৫) ও একই গ্রামের অপূর্ব বিশ্বাস।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার জয়পাশা এলাকা থেকে প্রসেনজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার মিশ্রী দেয়াড়া এলাকা থেকে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরে নড়াইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার ভোরে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারকেলবাড়িয়া থেকে আসামি আকাশ বিশ্বাসকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আকাশ একই গ্রামের প্রভাষ বিশ্বাসের ছেলে। অন্য দুই আসামি এখনো পলাতক।
নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানালেন, আনোয়ার হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসানের ভাষ্য, আনোয়ার হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
আনোয়ারের পরিবারের সদস্যরা জানালেন, গত ২৪ জুন রাতে চোর সন্দেহে গাছে বেঁধে সারা রাত নির্যাতন করে নড়াইল সদরের বাঁশগ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে বিড়ির ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। তাকে টেনে পাকারাস্তার ওপর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আট দিন চিকিৎসার পর গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় আনোয়ারের।
হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারসহ মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে করার দাবি জানান তারা।
এ ঘটনায় ২৯ জুন দুপুরে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন আনোয়ারের বড় ভাই নবীর হোসেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুন সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আনোয়ার। এর পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। উপজেলার গোবরা মালোপাড়ার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ, হৃদয়সহ কয়েকজন আনোয়ারকে চোর সন্দেহে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে গাছের সঙ্গে সারা রাত বেঁধে রাখেন এবং মারধর করেন।
বিবরণ থেকে জানা যায়, একপর্যায়ে আনোয়ারের গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন প্রসেনজিৎ। অন্যরা লোহার রড দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তার শরীরে জখম হয়। পরদিন ঘটনা জানাজানি হলে আনোয়ারকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। অবস্থার অবনতি হলে গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে আনোয়ারকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।






