বানিয়াচংয়ে পানিতে ডুবল কৃষকের স্বপ্ন

বানিয়াচংয়ে আউশের ক্ষেত— সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ৪০ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং সাড়ে ৩ হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কয়েকদিন আগেও ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখা কৃষকের আশা পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, বানিয়াচংয়ের ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের মক্রমপুর, সুজাতপুর, মন্দরী ও পৈলারকান্দি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উপজেলা সদরসহ অন্যান্য এলাকায়ও ফসলের কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত বোরো মৌসুমেও অকাল বন্যায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবার আউশ ধানের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে আবারও বন্যা দেখা দেয়। এতে হাওরাঞ্চলের আউশ ধান ও শাকসবজির জমি তলিয়ে নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক।
উপজেলা সদরের নন্দীপাড়া গ্রামের সবজি চাষী মখলিছ মিয়া বললেন, ‘তার জমিতে পানি জমে গেছে। এ কারণে শাকসবজির গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে।’
ইনাতখানী গ্রামের আরেক শাকসবজি চাষী আব্দুর রউফ একই ধরনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এখন ঋণ করে সংসার চালাতে হবে।’
পৈলারকান্দি ইউনিয়নের কুমড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির মন্তব্য করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকরা গত বোরো মৌসুমে সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। সাম্প্রতিক বন্যায় পুনরায় ফসলহানি কৃষকদের জন্য ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ এর মতো পরিণতি হয়েছে। তিনি বানিয়াচংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. এনামুল হক জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় বানিয়াচং উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমির আউশ ধান এবং সাড়ে ৩ হেক্টর জমির শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। কোনো সহায়তা বরাদ্দ এলে তালিকা প্রণয়ন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।





