কড়া পাহারার মাঝেই শূন্যরেখা থেকে ‘তিন বাংলাদেশি’ উধাও

উধাও হওয়া তিনজন— সংগৃহীত
জয়পুরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবির কড়া পাহারায় থাকা এক বৃদ্ধ দম্পতিসহ ‘তিন বাংলাদেশি’ উধাও হয়ে গেছে। আজ রবিবার সকালে সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্তে ঘটেছে এ ঘটনা। এতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্থানীয় গ্রামবাসী এবং নিখোঁজদের স্বজনদের বক্তব্যে চরম অমিল পাওয়া গেছে। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় তৈরি হয়েছে গভীর রহস্য।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তের ফ্লাডলাইট নিভিয়ে ৫ জনকে দেশের ভেতরে পুশইন করে। এদের মধ্যে দুজন পালিয়ে গেছে। তবে এক বৃদ্ধ ও দুই নারীকে সীমান্তসংলগ্ন রাস্তায় আটকে ফেলে গ্রামবাসী। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং ওই তিনজনকে শূন্যরেখায় নিয়ে কড়া পাহারায় রাখেন। আটকদের কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। তারা হলেন নড়াইলের লোহাগড়ার ভাটপাড়া গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী নাছিমা বেগম এবং তাদের এক নিকটাত্মীয় শিউলি বেগম।
জানা যায়, কয়েক মাস আগে দালালের মাধ্যমে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন তারা। সেখানে ভিসা জটিলতায় পড়ে ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন এই তিনজন। শনিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে নড়াইল থেকে জয়পুরহাট সীমান্তে ছুটে আসেন হাফিজুর-নাছিমা দম্পতির ছেলে সোহাগ শেখ। তিনি নড়াইল পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
তিনি বললেন, ‘পাঁচ মাস আগে মা-বাবা চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। এক মাস ধরে তাদের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। আটকের ভিডিও দেখে রাতেই সীমান্তে ছুটে যাই। কিন্তু আমাকে আমার মা-বাবাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসতে দেওয়া হয়নি। তাদের দেশে ফেরাতে এখন আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছি।’ অন্যদিকে, বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধীন ভুটিয়াপাড়া বিওপি কমান্ডার শামসুজ্জামানের দাবি একেবারেই ভিন্ন।
তিনি বলেন, শনিবার রাতে শূন্যরেখায় অবস্থান করা ওই তিনজনকে বিএসএফই আবারও সরিয়ে নিয়ে গেছে।





