টানা বর্ষণে পানির নিচে হাতিয়া, কৃষি-মৎস্য খাতে ক্ষতির আশঙ্কা

হাতিয়ায় টানা বর্ষণে পানি ওঠেছে বাড়িতে— সংগৃহীত
লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণে নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় আমনের বীজতলা, আউশ ও সবজিক্ষেত, মৎস্য প্রজেক্ট এবং বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে হাতিয়ার নৌযোগাযোগও সীমিত পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে।
গত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ার শূন্যেরচর, লক্ষ্মীদিয়া ও রেহানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমনের বীজতলা, আউশের ক্ষেত, সবজিক্ষেত, পুকুর, মৎস্য প্রজেক্ট এবং আঞ্চলিক সড়ক পানিতে নিমজ্জিত হয়ে রয়েছে। একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে নিঝুম দ্বীপসহ হাতিয়ার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও। এতে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, টানা বর্ষণে বীজতলা, মৎস্য প্রজেক্ট ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নৌযান সীমিতভাবে চলাচল করায় প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতেও ভোগান্তি বাড়ছে।
তিনি আরও বলছিলেন, ‘মানুষ নিজের সুবিধার্থে খাল-নাল ভরাট করে ফেলেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।’
জাহাজমারা সিডিএসপি এলাকার কৃষক জসিম উদ্দিন জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তার আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাস পাল জানান, উপজেলায় ২৩ হাজার হেক্টর আউশ, ১৮ হাজার হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৮৫০ হেক্টর সবজিক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত। কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বললেন, ‘পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল-নাল পরিষ্কার করা খুবই জরুরি।’
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিকুল নেওয়াজ কবির জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের আধিক্য বিরাজ করছে। এ কারণে ওই এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে।
নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস. এম. রেফাত জামিলের ভাষ্য, ‘হাতিয়ার কোথাও বেড়িবাঁধ ভাঙার আশঙ্কা আছে কি না, আমরা সেদিকে নজর রাখছি। পাশাপাশি খাল সংস্কারের জন্য ডিপিপি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’
তিনি আরও বললেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে মানুষকে সচেতন হতে হবে। ব্যক্তি প্রয়োজনে খাল-নাল ভরাট বন্ধ করতে হবে।’





