আত্মগোপনে ছিলেন শিবির নেতা, উদ্ধারের পর ধর্ষণ মামলা

জিসান মিয়া প্রধান
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নিখোঁজের একদিন পর লাকসাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে। উদ্ধারের পর বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে একটি মামলাও হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। বিয়ে এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে গিয়েছিলেন।
গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জিসান ভুক্তভোগীকে গর্ভপাত করাতে চাপ দেন। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেন। পরে তার দেওয়া ওষুধ সেবনের ফলে ভ্রূণ নষ্ট হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়েতে সম্মতি দেন। তবে তার আগের দিন, ১১ জুন রাতে বিয়ে এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে দাউদকান্দি মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের ঘটনায় অনুসন্ধান চালিয়ে গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করে পুলিশ। জিসানের উদ্ধারের খবর পেয়ে একই রাতে ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি থানায় মামলা করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীর সঙ্গে প্রতারণামূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে।
জিসান মিয়া প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা পশ্চিম জেলা শাখার সাবেক সভাপতি।



