কলমাকান্দায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে চলাচলের উপযোগী হলো ভাঙা সড়ক

নেত্রকোনায় বর্ষার পানিতে ভেঙে যাওয়া সড়ক স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ভরাট করলেন তরুণরা। ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বর্ষার পানিতে ভেঙে যাওয়া সড়কের প্রায় ২০০ ফুট অংশ স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করেছেন স্থানীয় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে পূজার ছুটিতে বাড়িতে এসে তাদের এ উদ্যোগে আপাতত দুর্ভোগ কমেছে ১০ থেকে ১২টি গ্রামের বাসিন্দাদের। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের গোবিন্দপুর পাকা সড়ক থেকে বড়ইউন্দ বাজারে যাওয়ার কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। বর্ষার পানিতে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
সম্প্রতি বড়ইউন্দ বাজারে যাওয়ার পথে সড়কটির বেহাল অবস্থা ও মানুষের দুর্ভোগ দেখতে পান যাত্রাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য কেফায়েত হোসেন কাঞ্চন। এরপর তিনি পূজার ছুটিতে বাড়িতে আসা শিক্ষার্থী ও স্থানীয় তরুণদের একত্রিত করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গোবিন্দপুর পাকা সড়ক থেকে বড়ইউন্দ বাজারগামী সড়কের ভাঙা প্রায় ২০০ ফুট অংশে মাটি ভরাট করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ পথচারীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও মুমূর্ষু রোগীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালে নেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। অনেক সময় সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতো।
তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটি আপাতত চলাচলের উপযোগী হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়। এ উদ্যোগের জন্য কেফায়েত হোসেন কাঞ্চনসহ স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
তবে এলাকাবাসীর মতে, মাটি ভরাট করে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করা হলেও এতে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের দাবি, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার ও পাকা করা হোক। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




