কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে চাঁদপুরের ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রায় সব জমির বোরো ধান পেকে গেছে। ছবি: আগামীর সময়
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কালবৈশাখী, বজ্রপাত ও প্রবল শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি হয়েছে এই অঞ্চলের প্রায় ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে বোরো ধান, ভুট্টা, পাট, তিল, মুগ ও গ্রীষ্মকালীন সবজির।
রবিবার রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টির পর ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে মাঠপর্যায়ে। কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর বৃষ্টিতে স্বস্তির পর নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের জন্য।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মধ্যে রয়েছে বোরো ধান ৩২০ হেক্টর, ভুট্টা ৫০ হেক্টর, পাট ২০ হেক্টর, গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫০ হেক্টর, তিল ৫ হেক্টর এবং মুগ ৫ হেক্টর। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব এখনো নিরূপণাধীন।
মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন বোরো ধানের মাঠে পাকতে শুরু করেছে ধান। এরই মধ্যে ধান কাটা শুরু করেছেন অনেক কৃষক। আবার কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন অনেকে। কিন্তু হঠাৎ শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে মাঠে কাটা ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উঠোনে শুকাতে দেওয়া ভুট্টা।
এদিকে ঝড়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। কিছু জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায় এবং তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কৃষি উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকার জানিয়েছেন, এবার ধানের ফলন ভালো হলেও শিলাবৃষ্টিতে তার ক্ষেতের প্রায় ২০ শতাংশ পাকা ধান মাটিতে পড়ে গেছে। সময়মতো কাটতে না পরলে আশঙ্কা রয়েছে নষ্ট হওয়ার।
কিছুদিন আগে ঘূর্ণিঝড়ে ১০০ শতাংশ জমির ভুট্টা গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছিল দেওয়ানজীকান্দি গ্রামের ভুট্টাচাষি ইমরান হোসেনেv। তার ওপর আবার শিলাবৃষ্টি আরও বাড়িয়েছে তার খরচ।
অনেক আশা নিয়ে নতুন করে পাট চাষ করেছিলেন চাষি দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কোমল পাট গাছ ভেঙে গেছে। রয়েছে ফলন কমে যাওয়ার শঙ্কাও।
সোলাইমান নামে আরেক কৃষক বলেছেন, ঢেঁড়স ও ডাঁটার গাছের পাতা ছিঁড়ে গেছে। অনেক গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে নেব কীভাবে জানি না।
মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৪৪৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আমাদের কর্মকর্তারা কাজ করছেন মাঠপর্যায়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বোরো ধান, ভুট্টা ও সবজি।
তিনি জানান, কাটা ধান দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ভুট্টা সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান।



