‘চাঁদা না দেওয়ায়’ বাড়িছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, মা গৃহবন্দি

ছবি: আগামীর সময়
বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি ছাড়া হয়ে পড়েছেন সরকারি এক কর্মকর্তা। তাদের হামলায় বৃদ্ধ বাবা ও ৬ মাসের ভাগনে এবং মা ও ভাইকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ করেছেন তিনি।
আজ শুক্রবার দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলেন কালীগঞ্জ সহকারী যুব উন্নয়ন অফিসার তাহেরুল ইসলাম।
তাহেরুল ইসলাম আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চড়িতাবাড়ি গ্রামের আব্দুল লতিবের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন অফিসার হিসেবে কর্মরত।
সংবাদ সম্মেলনে তাহেরুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে আমার বাড়ি সংলগ্ন একটি জায়গা কেনেন আমার খালা। এ সময় আমার প্রতিবেশী কমলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুর আলম তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। না দিলে বিভিন্ন সময় বাড়িতে এসে ও অফিস যাওয়া-আসার সময় পথরোধ করে হামলা ও ভয়ভীতি দেখান।
তিনি আরো জানান, নুর আলম এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ। ২৬ জুন বাড়িতে এসে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে শাসিয়ে গেছেন। টাকা না দিলে মেরে ফেলবেন বলে জানান। বাধ্য হয়ে সেদিন রাতেই বাড়ি ছেড়ে কর্মস্থল কালীগঞ্জে শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। গত ২৩ জুলাই বাড়ি যাবার পথে তাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ২৬ আগস্ট নুর আলম ও তার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম আমার খোঁজে বাড়িতে গিয়ে দাবিকৃত চাঁদা সুদসহ দাবি করেন। এ সময় তারা আমাকে না পেয়ে বৃদ্ধ বাবাকে মারপিট করে। ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশের উপস্থিতিতে আমার বোন বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে চাঁদাবাজরা বোন ও ৬ মাসের ভাগনেকেও মারপিট করে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনা নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনও সুফল মেলেনি, উল্টো চাঁদাবাজরা আমার মা ও ছোট ভাইকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। চাঁদাবাজ নুর আলম ও রফিকুলসহ তার লোকজন আমাদের বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়েছে। ভয়ে আমি ও আমার পরিবার জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছি।
আদিতমারী থানার ওসি নাজমুস সাকিব সজীব জানান, থানায় তো অনেক অফিসার। কারা গিয়েছিল জানি না। বাড়ি ছাড়ার খবর সঠিক নয়। চাকরির সুবাদে কর্মস্থলে থাকতে পারেন। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








