‘সরকার ফ্যাসিজমের দিকে আগাচ্ছে, আমরা আটকানোর চেষ্টা করছি’

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মহিলা মাদ্রাসার মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সনদ বাস্তবায়নে আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ মহিলা মাদরাসা মাঠে উপজেলা জামায়াতের ৬৫০ ইউনিট সভাপতিদের সম্মেলন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জামায়াত, বিএনপিসহ অনেকগুলো রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করেছিল। সেখানে নির্বাচিত সরকার ১৮০ দিনের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে বলে উল্লেখ ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে সরকার সনদ বাস্তবায়ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তারা এখন জুলাই সনদ অস্বীকারের চেষ্টা করছে। সরকার ফ্যাসিজমের দিকে আগাচ্ছে, আমরা তাদের সে পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করছি।’
তিনি বললেন, ‘সেপ্টেম্বরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হবে। আমরা আশা করব, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অধিবেশন ডেকে তা বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায় জনগণকে নিয়ে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সরকার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য, সরকার সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ করে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা অসাংবিধানিক। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় প্রশাসক নিয়োগ না দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে জনগণের ভোগান্তি কমবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, ‘এ দেশে সব বিষয় নিয়ে কথা বলার একজন মন্ত্রী রয়েছেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিয়ে কথা বলেন এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলকে ছোট করে বক্তব্য রাখেন। অথচ তার নিজের মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির দিকে তার খেয়াল নেই।’
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি না। সবদিকে শুধু সরকার দলীয় লোকদের মারামারি দেখতে পাচ্ছি। দেশে উন্নয়নের বৈষম্য চলছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায় সুষম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না।’
তিনি বলছিলেন, ‘নির্বাচিত সংসদ সদস্য তার এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করবেন, উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন— এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি বেমানান এবং এর মাধ্যমে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আরও খাটো করা হচ্ছে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের ১৩ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও আমাদের নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হোক।’
সম্মেলনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান বিশেষ অতিথি ছিলেন। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় উপজেলা ও পৌর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।








