ছোট্ট মনে বড় মমতা
- সাইন্তিকার টিফিনের টাকায় অসহায়দের পূজার শাড়ি

চারদিকে পূজার আনন্দ। সবার পরনে নতুন পোশাক। ছোট-বড় সবার মুখে উৎসবের হাসি। কিন্তু হবিগঞ্জের দারাগাঁও চা বাগানের বাসিন্দা লক্ষ্মী সিংছত্রী ও তার মেয়ে মিষ্টি সিংছত্রীর ঘরে ছিল না সেই আনন্দের ছোঁয়া। স্বামীহারা লক্ষ্মীর বয়স ৫০ পেরিয়েছে। তার দুই পা অবশ। একমাত্র কিশোরী মেয়ে মিষ্টিও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। আর্থিক অনটনে পূজার নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য ছিল না মা-মেয়ের। গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ে ৯ বছরের সাইন্তিকা কস্তা। দরজা খুলতেই লক্ষ্মী ও মিষ্টির হাতে একটি করে শাড়ি তুলে দেয় সে। শুধু শাড়ি উপহার দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ছোট্ট মেয়েটি, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজের বাড়িতে বেড়াতে আসার নিমন্ত্রণও জানায়। সাইন্তিকার উপহার পেয়ে মা-মেয়ের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি।
সাইন্তিকা হবিগঞ্জের দারাগাঁও চা বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা রবি কস্তা ও মা শিউলী কন্দের কাছ থেকে টিফিনের জন্য পাওয়া টাকা জমিয়ে সে গড়ে তুলেছে এই মানবিক উদ্যোগের তহবিল। গত পাঁচ বছরে মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া টাকা জমিয়ে তার সঞ্চয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৫৭ টাকা। সেই টাকা থেকেই এবার পূজায় আটজন নারীকে শাড়ি উপহার দিয়েছে সে।
লক্ষ্মী ও মিষ্টি ছাড়াও সাইন্তিকার কাছ থেকে শাড়ি পেয়েছেন জোছনা মাল, মিনা সিংছত্রী, পদ্মা সতনামী, অর্চনা গোয়ালা, নিরদা রবিদাস ও আদর্শ মনী। শাড়ি পেয়ে আনন্দিত জোছনা মালের ভাসায়, স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে তার চারজনের সংসার। অভাবের কারণে এবার সন্তানদের জন্যও নতুন পোশাক কিনতে পারেননি। পুরনো কাপড়েই পূজা কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় একটি ছোট মেয়ে তাকে নতুন শাড়ি উপহার দেবে, তা ভাবেননি। সাইন্তিকার কাছ থেকে শাড়ি পেয়ে তিনি খুব খুশি।
সাইন্তিকার এই উদ্যোগে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তার পরিবারও। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীপ্রেমী বাবা রবি কস্তা এবং বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করা মা শিউলী কন্দ সন্তানদের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেন। মেয়ের উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদের সঞ্চয় থেকে আরও ১৫ জন নারীকে পূজার শাড়ি উপহার দিয়েছেন তারা।
রবি কস্তা বললেন, ‘মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে জাত-ধর্ম বিবেচনা করা উচিত নয়। সন্তানদেরও সে শিক্ষা দিচ্ছেন তারা। টিফিনের টাকা ছাড়াও মামা-চাচারা বেড়াতে এলে সাইন্তিকাকে ৫০ বা ১০০ টাকা দিতেন। সেই টাকাও জমিয়ে রাখত সে।’



