অটোপাসের দাবিতে উত্তাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ভিসি অবরুদ্ধ

ছবিঃ আগামীর সময়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাসের দাবিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর গাড়িবহরে হামলা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা উপাচার্যকে আধাঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের মধ্যে ঘটে সংঘর্ষের ঘটনা। এতে আহত হন অন্তত ৩৫ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপাচার্য গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে রওনা হচ্ছিলেন ঢাকার উদ্দেশে। এ সময় প্রধান ফটকের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার গাড়ির গতি রোধ করেন।
একপর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী শুয়ে পড়েন গাড়ির নিচে। পরে নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের সরাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রেজাউর রহমান মিয়া, নিরাপত্তা পরিচালক মো. কামাল হাসানসহ অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী। আহতদের মধ্যে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীও রয়েছেন। তাদের ভর্তি করা হয়েছে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ভাবনা রহমান জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে সেশনজট নিরসনসহ ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন।
তাদের দাবিগুলো হলো- পুনর্মূল্যায়নকৃত শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় গ্রেস মার্ক দিয়ে পাস নিশ্চিত করা। এক বিষয়ে অকৃতকার্যদের বিশেষ বিবেচনায় উত্তীর্ণ করা। পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখার সুযোগ প্রদান। দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করে প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়া।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই ‘অটোপাস’ বা ‘অন্যায্য আবদার’ মেনে নেবে না।
‘শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিরুৎসাহিত করছে অটোপাস ও গ্রেস মার্ক। একবার অটোপাস দিলে ভেঙে পড়বে দেশের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা। এ ব্যাপারে আরও কঠোর হবে প্রশাসন’, অটোপাসের পরিবর্তে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান উপাচার্য।
এর আগে গত বছরের ২১ মে একই দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন উপাচার্য।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপদে বের করে আনেন উপাচার্যসহ কর্মকর্তাদের। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পুলিশের। শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পাস এলাকা থেকে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

