প্রান্তিক বাজেট ২০২৬-২৭ প্রতিক্রিয়া
শিক্ষকদের আর্থিক বৈষম্য নিরসন চাই

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সংকট ও বৈষম্যের বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অবসর সুবিধাসহ বিভিন্ন দাবির বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাড়ছে অসন্তোষ। বাজেট-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় এমনটিই জানালেন নবাবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলম।
শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই— মনে করেন কলাকোপা কোকিল প্যারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক। তার মতে, শিক্ষকদের বৈষম্য দূর করাই হতে পারে শিক্ষা সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি বলেছেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, বরাদ্দের একটি বড় অংশ সবসময় ব্যয় হয়নি প্রয়োজনীয় খাতে। শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা নিয়ে বাজেটে স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন শাহ আলম।
তিনি বলেছেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি হলো বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, উৎসব ও শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধি। কিন্তু এবারের বাজেটে পাওয়া যায়নি এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ঘোষণা।’
শাহ আলমের মতে, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তার ভাষায়, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নত হয় না শিক্ষার মান। শিক্ষার মূল বিষয় হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পাঠদানের মানোন্নয়ন। কারিগরি শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময় সরকার এ খাতকে অগ্রাধিকার দিলেও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি কর্মসংস্থানমুখী ও কার্যকর কারিগরি শিক্ষা।’
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষার বর্তমান কাঠামোর কথা উল্লেখ করেন। ‘যত্রতত্র প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে মাদ্রাসা। অনেক প্রতিষ্ঠানে নেই প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী। কোথাও কোথাও নেই একজন শিক্ষার্থীও। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের পেছনে ব্যয় হচ্ছে সরকারের’— যোগ করেন এই শিক্ষক নেতা।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শাহ আলম। তিনি বললেন, ‘দেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া ও পরিচালনার ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষকদের সৃজনশীলতা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার স্বাধীনতা।’
তার ভাষায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় আরও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব।
বাজেট নিয়ে নিজের মূল্যায়নের শেষদিকে তিনি বলেছেন, ‘সরকার যদি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বিবেচনায় নেয় এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’




