বাউফলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবের ওপর হামলার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করেছেন তিনি। ঘটনার পর বাউফল থানার সামনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়ো হতে দেখা যায়। এ নিয়ে শহরে বিরাজ করছে উত্তেজনা।
রবিবার (৮ নভেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে বাউফল বাজার রোডে আল-ফাহাদের সামনে ঘটে এ ঘটনা।
আপেল মাহমুদ ফিরোজের অভিযোগ, দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাব হোসেন মেম্বারের ছেলে সাদিকের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন কিশোর তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তার শার্টের কলার ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মারে এবং টেনে রাস্তায় ফেলে দেয়। একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ৬০ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই টাকা দিয়ে গরিব মানুষের জন্য চাল কিনতে বাজারে যাচ্ছিলেন বলে জানান আপেল ফিরোজ।
খবর পেয়ে বাউফল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে শহরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি হাসপাতাল রোড অতিক্রম করার সময় দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাব হোসেন মেম্বার ব্যানারের সামনে চলে আসেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ তাকে পেছনে যাওয়ার কথা বললে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রাতের হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ বিষয়ে আলতাব হোসেন মেম্বারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেছেন, রাতে গরিব মানুষের জন্য চাল কিনতে বাজার রোডে যাওয়ার সময় সাদিকের নেতৃত্বে ১২-১৩ জন তার ওপর হামলা চালায়। তাকে মারধর করে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় এবং পকেট থেকে টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বাউফল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাউফল থানার সামনে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।




