দহগ্রাম সীমান্তে উত্তেজনা
পতাকা বৈঠকে বিজিবি-বিএসএফ

সংগৃহীত ছবি
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম তিনবিঘা করিডোর সীমান্তে শূন্যরেখার কাছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার পর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে পতাকা বৈঠক। এ সময় আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে উভয় পক্ষ।
শনিবার দুপুরে ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধীন পানবাড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির দায়িত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৮১২-এর কাছে ভারতের অভ্যন্তরে অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। এতে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান। বিএসএফের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বিনোদ কুমার।
বৈঠকে বিজিবি কড়া আপত্তি জানিয়ে বলে, ১৯৪৭ সালের সীমান্ত আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা বা বেড়া নির্মাণের সুযোগ নেই। অথচ বিএসএফ শূন্যরেখা থেকে মাত্র ৫০ গজের মধ্যে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা সীমান্ত আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
জবাবে বিএসএফ অধিনায়ক বিনোদ কুমার দাবি করেন, ভারতের সীমান্তবর্তী জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে মূলত জরিপকারীদের মাধ্যমে মাপজোখের কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তার অভিযোগ, ভারতীয় ভূখণ্ডের ধান ও ভুট্টা কেটে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি কিছু কৃষক।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুঃখ প্রকাশ করেন বিজিবি অধিনায়ক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বৈঠক প্রসঙ্গে বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কথা বলেননি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভারতের অভ্যন্তরে জমি অধিগ্রহণে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো কাঁটাতারের বেড়া বা স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
সূত্রটি আরও জানায়, বিএসএফ অধিনায়কও সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকার এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ‘পুশইন’ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য উভয় দেশের সীমান্ত ফাঁড়ি ও কোম্পানি অধিনায়কদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় এ বৈঠকে।






