বারহাট্টায় ছুটির দিনে শিক্ষা অফিস থেকে বই সরানো নিয়ে রহস্য

শিক্ষা অফিস থেকে বই বের করে ভ্যানে করে প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে তোলা হয়। ছবি: আগামীর সময়
সরকারি ছুটির দিনে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ নতুন বই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার ভ্যানে করে অফিস থেকে বই বের করে বারহাট্টা বাজারের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে তোলা হয়।
বইগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি পরিবহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি তারা।
ঘটনাস্থলে বই পরিবহনের কাজে থাকা এক ভ্যানচালক জানান, ভাড়ায় চালিত গাড়িতে করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বই এনে ট্রাকে তোলা হচ্ছে। তবে এসব বই কোথায় নেওয়া হবে, তা তিনি জানেন না।
অফিসের সামনে থাকা এক ব্যক্তির কাছে বইগুলোর গন্তব্য জানতে চাইলে তিনি প্রথমে জানান, বইগুলো নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নেওয়া হচ্ছে। পরে ক্যামেরার সামনে একই বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি আর কোনো কথা বলেননি। বরং আগামীর সময়ের প্রতিবেদককে অফিসের ভেতরে নিয়ে যান।
সেখানে সেলিম শেখ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে কর্ণফুলী পেপারস মিলের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, পুরনো বই সংগ্রহ করে নতুন কাগজ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হবে। পরে আবার জানান, বইগুলো প্রথমে নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে নেওয়া হবে। সেখানে হিসাব-নিকাশ শেষে ঢাকায় পাঠানো হবে।
তবে ট্রাকচালক জানিয়েছেন, গাড়িটি কোথায় যাবে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। বই তোলার কাজে থাকা শ্রমিকরাও মালামালের গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই সরানো হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই কোনো অবস্থাতেই নেওয়া যাবে না।
সরেজমিন বইয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে বিভিন্ন ফাইল ও পুরনো খাতাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সরকারি ছুটির দিনে শিক্ষা অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ বই ও অন্যান্য মালামাল সরানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বইগুলো কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, কার নির্দেশে নেওয়া হচ্ছিল এবং এক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী কম্পিউটার অপারেটর লতিফুর রহমান জানিয়েছেন, দুদিন আগে নেত্রকোনা থেকে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব স্যার এ বিষয়ে কথা বলে গেছেন।
পরে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, সরকারি ছুটির দিনে কোনো অবস্থাতেই এভাবে বই নেওয়া উচিত নয়। বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়ে গাড়িটি আটকে রাখার কথাও বলেছেন তিনি।






