কাজকর্ম-পড়াশোনায় লোডশেডিংয়ের ক্ষত!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চলছে এসএসসি পরীক্ষা। প্রস্তুতিও ভালো রাবেয়া আক্তারের। তবে লোডশেডিংয়ের কারণে বসতে পারছেন না পড়ার টেবিলে। এর ওপর তীব্র গরম। রীতিমতো বিরক্তি তার কণ্ঠে, ‘ভালো রেজাল্টের জন্য প্রিপারেশন নিয়েছিলাম। কিন্তু কারেন্টের আসা-যাওয়ায় ঠিকমতো পড়ালেখাই হচ্ছে না। দিনে ২ ঘণ্টাও কারেন্ট থাকে না। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছি।’
এই অভিযোগ শুধু রাবেয়ারই নয়, মাদারীপুরের আরও অনেক শিক্ষার্থীর। তাদের ক্ষোভ, পড়তে বসলেই হঠাৎ চলে যায় কারেন্ট। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো আসে এক ঘণ্টা পর। ঠিকমতো পড়াশোনা করা হয়ে পড়েছে কঠিন।
ঘন ঘন লোডশেডিং শুধু শিক্ষার্থী নয়, প্রভাব ফেলছে কৃষক ও শ্রমজীবীদের ওপরও। শহরে দৈনিক গড়ে লোডশেডিং হচ্ছে ৫ ঘণ্টা। গ্রামে এর পরিমাণ আরও বেশি। ৬-৭ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকছে না বিদ্যুৎ। এতে বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে সেচ সংকটে পড়েছেন কৃষক।
সেচ পাম্প চালান সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের কবির কবিরাজ। লোডশেডিংয়ে বিরক্ত তিনিও। তার ভাষ্য, ‘মোটর চালুর পর কয়েক মিনিট চলে। ক্ষেতে পানি যাওয়ার আগেই কারেন্ট চলে যায়। এক বা আধা ঘণ্টা থাকে। আসে, আবার যায়। জমি ফেটে যাচ্ছে রোদে। পানি নেই।’
সেচের অভাবে গজাচ্ছে না পাটের চারা। কৃষক এনামুল আকনের চিন্তা, ‘এবার পাঁচ বিঘা জমিতে পাটের বীজ লাগিয়েছি। কিন্তু সেচ দিতে পারছি না। চারাও গজাচ্ছে না।’
সেচ নিয়ে শঙ্কার কথা জানান আরেক কৃষক রুবেল মাতুব্বর। ‘দুই একর জমিতে বোরো ধান করেছি। এমনিতেই ডিজেল সংকট, তার ওপর লোডশেডিং।’
যদিও সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে কৃষি বিভাগ। ‘ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে হয়েছে কথা। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী অনেক জায়গায় দেওয়া হচ্ছে জ্বালানি তেল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সংকট। এ কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমস্যা হচ্ছে। শিগগিরই এর সমাধান হবে’, বলেছেন মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রহিমা খাতুন।
শুধু কৃষিতেই নয়, স্থবির হয়ে পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিং কাজেও। বুটিকসের কাজ করেন শিউলি আক্তার। লোডশেডিংয়ে বন্ধ হওয়ার পথে তার প্রতিষ্ঠান। বললেন হতাশার কথা, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন ২০ জন নারী, যা আয় হয়, তা দিয়েই সবার সংসার চলে। কারেন্ট না থাকায় বেশিরভাগ সময়ই বসে থাকতে হয়।’
একই কথা জানালেন ফ্রিল্যান্সার শাহরিয়ার ও শুভ, ‘কারেন্ট না থাকায় বন্ধ রয়েছে কাজ। এভাবে চললে সব কাজ হাতছাড়া হবে।’
জেলার পাঁচটি উপজেলায় প্রায় সাড়ে চার লাখ গ্রাহক। বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮৮ মেগাওয়াট। অথচ সরবরাহ মিলছে ৭০ মেগাওয়াট। এ তথ্য দিচ্ছে মাদারীপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি।
জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সেই বিষয়েও কিছু বলতে পারছেন না সমিতির কর্তারা। তাদের কথা, ‘এপ্রিলের শুরু থেকেই বেড়েছে গরম। বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। জ্বালানি সংকটে সেই অনুপাতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না’, বলেছেন সমিতির জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত রায়।

