পাওনা টাকা চাওয়ায় সাভারে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে পুরুষাঙ্গ কর্তনের অভিযোগ

হাসপাতালে ভর্তি আহত ব্যবসায়ী- আগামীর সময়
ঢাকার সাভারে বকেয়া ঋণের টাকা পরিশোধের তাগাদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আহসান উল্লাহ স্বপন (৪২) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও তার পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার রাত প্রায় ১টার দিকে সাভার পৌর এলাকার বক্তারপুর তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহসান উল্লাহ স্বপন বংশী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহসভাপতি। এ ঘটনায় তার ছেলে মেহেদী হাসান শ্রাবণ সাভার মডেল থানায় ফারুক হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় এক বছর আগে বক্তারপুর এলাকার ফারুক হোসেন ওই সমিতি থেকে ১২০ দিনের মেয়াদে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি ঋণের টাকা পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহসান উল্লাহ স্বপন পাওনা টাকা পরিশোধের তাগাদা দিলে ফারুক তাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রবিবার রাত প্রায় ১টার দিকে এলাকায় লোডশেডিং চলছিল। এ সময় আহসান উল্লাহ স্বপন নিজের বাড়ির গেটের সামনে হাঁটছিলেন। তখন ফারুকের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড়, মাথা, গাল, হাত ও ঠোঁটে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে স্বজনরা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ আ. ওহাব আজ সোমবার বিকালে আগামীর সময়কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তবে ঘটনার পেছনে শুধু বকেয়া ঋণের টাকা চাওয়ার বিষয়টি ছিল কি না, নাকি অন্য কোনো কারণও রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বললেন, ঋণের বিষয়টির পাশাপাশি প্রেমসংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানালেন এসআই মোহাম্মদ আ. ওহাব।







