সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী
দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই অবকাঠামো গড়ছে সরকার

রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে দুর্যোগ মোকাবিলায়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ, কৃষি, সেচ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।
আজ শনিবার সিলেট সদর উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ এবং রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
মন্ত্রী জানালেন, চলমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় দুই হাজার উপকারভোগীর প্রত্যেককে দেওয়া হবে ৩০ কেজি করে জিআর চাল। এ ছাড়া, এক হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে প্রায় ৭০০ জনকে।
তিনি আরও জানালেন, রাজারগাঁও জামিয়ুল উলুম মাদ্রাসা ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শেষ হলে তিনতলা ভবনটি একদিকে মাদ্রাসা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। অন্যদিকে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। ভবনটিতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কক্ষ, বাথরুম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে দুর্যোগকালে নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা যায়।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্প। এ ছাড়া সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন, নতুন রাস্তা নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, সাময়িক জলাবদ্ধতা ও সেচের পানির অভাবে অনাবাদি থাকা জমিগুলোকে চাষাবাদের আওতায় আনতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচি জোরদার করে সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সিলেটের কৃষিজমিতে সারা বছর চাষাবাদ সম্ভব হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর হবে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।





